মোংলা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এসব তথ্য জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ সময় মোংলাকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে চীনা বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে আধুনিকায়ন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট আলোচনায় সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেনের নেতৃত্বে আসা উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশি জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করায় চীনা প্রতিনিধিদলকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ ধরনের সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
দিনটিকে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন