অনলাইন নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

অভিশংসনের উদ্যোগ নিলে ডেমোক্র্যাটদের ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ডেমোক্র্যাটরা তৃতীয়বারের মতো অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করলে সেই উদ্যোগে দলটিই রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নিজের বিরুদ্ধে অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের কথা নাকচ করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম সফল সময় পার করছে। তাঁর ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর দাবি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এসব তদন্তের আওতায় পেন্টাগনে সাম্প্রতিক রদবদল থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও ব্যবসায়িক লেনদেন আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটদের তৃতীয়বার অভিশংসন উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এ নিয়ে তাঁর কোনো শঙ্কা নেই। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটরা এমন পদক্ষেপ নিলে নিজেদের দলকেই ধ্বংসের মুখে ফেলবে।

অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের অভিশংসনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বেড়েছে। ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য উদ্যোগ সম্পর্কে রিপাবলিকান নেতা স্টিভ স্ক্যালিস ও সিনেটর টেড ক্রুজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাওয়া হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁদের দল সব সম্ভাবনা বিবেচনায় রাখছে। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার কালশির হিসাবে নির্বাচনের পর ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। তবে এ ধরনের পূর্বাভাস কোনো নিশ্চিত ফলাফল নয়; এটি বাজারের অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরানোর দাবি

অভিশংসন ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষানীতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা বাড়ছে। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার হাকিম জেফরিস জানিয়েছেন, তাঁদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে পদ থেকে সরানোর উদ্যোগ নেওয়া।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে হেগসেথকে দায়িত্বে রাখা উচিত কি না, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের মতামত নিচ্ছেন। এ ছাড়া ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রবীণ প্রতিনিধি জেমি রাসকিনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিশংসন হলো ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ডেমোক্র্যাটদের হাতে থাকা একাধিক উপায়ের একটি।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আগের দুই অভিশংসন

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টসহ নির্দিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ, ঘুষ বা রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে কংগ্রেস অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের প্রস্তাব পাস হলেও পদচ্যুতির জন্য সিনেটে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার প্রয়োজন হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার অভিশংসিত হন ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সে সময় প্রতিনিধি পরিষদ তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনে। ইউক্রেনকে দেওয়া প্রায় ৪০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা আটকে রেখে ২০২০ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে ভোটাভুটিতে তিনি অভিযোগ থেকে খালাস পান।

এরপর ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে একই বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার অভিশংসিত হন ট্রাম্প। তবে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটের ভোটে তিনি আবারও খালাস পান।

মার্কিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে অভিশংসনের পর সিনেটে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় চূড়ান্তভাবে পদ থেকে অপসারণ করা সম্ভব হয়নি।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সের মতবিরোধ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও মতবিরোধের খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভ্যান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধের কারণে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো যুক্তিসংগত ছিল না। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা রয়েছে এবং বিষয়টি স্বীকার করা প্রয়োজন।

তবে ভ্যান্সের মন্তব্যের সঙ্গে একমত হননি ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুমের নির্মাণকাজ পরিদর্শনের সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত শতভাগ সঠিক ছিল এবং এর জন্য যে মূল্য দিতে হয়েছে, তা যথাযথ ছিল।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ছেলের বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে অনুমতি পেলেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক

1

বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদ, বছরে ৪৮০৩ তালাক

2

মমতাকে হারানোর পেছনে হাসিনার হাত রয়েছে

3

শর্ত মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলায় নিহত ১০

4

ফিফার ব্যাখ্যা মানতে নারাজ নরওয়ের কোচ

5

শাকিরা-পিকের ব্যবহৃত বাড়ি কিনলেন বিশ্বকাপজয়ী ইয়ামাল, খরচ কত?

6

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প

7

মনজুর আলমের এনসিপি ও মেয়র নির্বাচন গুঞ্জন নিয়ে বক্তব্য

8

মেসি-বার্সালোনা বিচ্ছেদের ৫ বছর

9

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ২০২৬-২৭: দু’দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শু

10

ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া নিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা : ডিএমপি

11

দুবাইয়ে শপিং মলে ডেকে বেনজীরকে আটক

12

দুই মাসে ৬০ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন

13

এয়ার চায়নার ৪টি ফ্লাইট বাতিল

14

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

15

বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে ও বাড়তে পারে

16

আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলের হারিয়েছে আর্জেন্টিনা

17

মার্তিনেসকে ঘিরে স্বস্তি আর্জেন্টিনার

18

পুলিশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার আ

19

বিশ্বকাপে গোলের সেঞ্চুরি নেদারল্যান্ডসের

20