ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া চিকিৎসা কতটা কার্যকর

বর্তমান সময়ে থাইরয়েডজনিত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। ডায়াবেটিসের মতোই এই হরমোনজনিত রোগ এখন ছোট-বড় অনেকের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে। থাইরক্সিন হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে শরীরে ক্লান্তি, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, চুল পড়া, মেজাজের পরিবর্তন এবং নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্রের অনিয়মসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাইরয়েড নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ও পরামর্শ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই দাবি করেন, শুধুমাত্র বিশেষ ডায়েট, ভেষজ পানীয় বা যোগব্যায়ামের মাধ্যমে থাইরয়েড সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধারণা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয় এবং রোগীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েড সমস্যা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার বিষয়। মুম্বাইয়ের চিকিৎসক নীমিত নাগড়া জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে থাইরয়েড নিজে থেকে সম্পূর্ণ সেরে যায় না। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা অবহেলা করলে ভবিষ্যতে আরও জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ঘরোয়া টোটকা, ভেষজ উপাদান বা জীবনযাত্রার পরিবর্তন থাইরয়েড ব্যবস্থাপনায় কিছুটা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এগুলো কখনোই মূল চিকিৎসার বিকল্প নয়। অনেক সময় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ব্যায়ামের ফলে হরমোনের মাত্রা সাময়িকভাবে স্বাভাবিক দেখাতে পারে, কিন্তু সেটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ডিটক্স ড্রিংক, হারবাল সাপ্লিমেন্ট এবং ঘরোয়া প্রতিকারের প্রচারণা দেখা যায়। তবে এসব পদ্ধতি থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে কার্যকর—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে সব থাইরয়েড রোগীর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয় না। কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে থাইরয়েডের মাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গর্ভাবস্থার পর হরমোনের সাময়িক পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট থাইরয়েড সমস্যা অনেক সময় নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা থাইরয়েড গ্রন্থির সাময়িক প্রদাহের কারণেও এমন পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, যদি টিএসএইচ (TSH) মাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং রোগীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো উপসর্গ না থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নেওয়া উচিত।

থাইরয়েড এমন একটি স্বাস্থ্য সমস্যা, যা কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বা ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। সঠিক চিকিৎসা, নিয়মিত পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সমন্বয়ই থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর পথ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিমান্ড শেষে কারাগারে ডন, সালমান শাহ হত্যায় জড়িত থাকার প্রমা

1

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

2

‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী’, কী ইঙ্গিত দিলেন শাবন

3

বিয়ের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও নববধূ

4

গোল্ডেন বুট দৌড়ে তীব্র লড়াই: মেসি-এমবাপে-হলান্ড কারা এগিয়

5

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা গ্রেপ্তার

6

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের হার্টের ঝুঁকির কারণ

7

ওমান উপকূলে তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড, দুই নাবিক নিখোঁজ

8

ঈদে পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে ব্যাংকের বিশেষ বুথ বসানোর নির্দ

9

‘এটা বাতিল করে দেখাও’ যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর পর ট্রাম্পকে বে

10

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন

11

পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন শিক্ষক বিউটি রাণী

12

জাপান পরীক্ষায় যেমন হবে ব্রাজিলের একাদশ

13

স্পেনের সঙ্গে মেসির ‘বিদায়ী ম্যাচ’ খেলার প্রস্তাব

14

ব্রাজিলকে বিদায় দেওয়া সেই গণক দেখলেন তার নিজের দেশের বিদায়

15

অথৈ সাগরে হাবুডুবু খাওয়া এক মায়ের ৩৮ বছরের সংগ্রাম! ফিরলেন স

16

গান গেয়ে চাকরি হারালেন ঢাবির সেই ভাইরাল শিক্ষক

17

বিশ্বকাপের ইতিহাসে লজ্জার রেকর্ড গড়ল ফ্রান্স

18

ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জার্মান চ্যান্সেলরের

19

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু: মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্

20