শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা বিধি মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ায় ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স করপোরেশন–এর বিরুদ্ধে দেওয়া জরিমানা বহাল রেখেছে অস্ট্রেলিয়ার একটি ফেডারেল আদালত।
অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে যেকোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাইতে পারে দেশটির ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নির্ধারিত তথ্য যথাযথভাবে না দিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানার মুখে পড়তে হয়।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন টুইটারের কাছে শিশু যৌন নির্যাতন–সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।
পরবর্তীতে টুইটার ইলন মাস্কের নতুন প্রতিষ্ঠান এক্স করপোরেশনের সঙ্গে একীভূত হয়। পরে কর্তৃপক্ষের চাওয়া তথ্যের অসম্পূর্ণ জবাব দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে ফেডারেল আদালত রায় দেন, এক্সকে অবশ্যই ওই নোটিশের পূর্ণাঙ্গ জবাব দিতে হবে। বৃহস্পতিবার দেওয়া নতুন আদেশে আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ দেন।
ফেডারেল বিচারপতি মাইকেল হুইলাহান বলেন, বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এক্সের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা প্রয়োজন ছিল, যাতে এটি ভবিষ্যতে কার্যকর সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের প্রধান জুলি ইনম্যান গ্রান্ট আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনতে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর ও ভয়াবহ কনটেন্ট প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
মন্তব্য করুন