অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ফিফাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, জরিপে মেসিই বিশ্বসেরা, সেরা দশেও নেই রদ্রি

ছবি: সংগৃহীত



বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে ভাসছে স্পেন। দলগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পুরস্কারেও আধিপত্য দেখিয়েছে তারা। টুর্নামেন্টসেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতেছেন মিডফিল্ডার রদ্রি, সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছেন ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি এবং গোল্ডেন গ্লাভস উঠেছে গোলরক্ষক উনাই সিমনের হাতে। তবে স্পেনের এই সাফল্যের মাঝেই সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে গোল্ডেন বল নিয়ে। অনেকের প্রশ্ন, লিওনেল মেসি বা কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো পারফর্মারদের পেছনে ফেলে রদ্রিকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করা কতটা যৌক্তিক? স্কাইস্পোর্টস

 বিতর্ক থামছে না। কারণ, টুর্নামেন্টের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে অন্য কয়েকজন ফুটবলারের অবস্থান ছিল আরও উজ্জ্বল। স্কাই স্পোর্টসের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের সেরা তিন পারফর্মার হিসেবে রাখা হয়েছে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহ্যামকে। সেখানে রদ্রির অবস্থান ছিল ১৮তম। এমনকি স্পেন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেও সামগ্রিক রেটিংয়ে তিনি ছিলেন সপ্তম।

বিস্তারিত পরিসংখ্যানও একই ধরনের চিত্র তুলে ধরে। ৪৩টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকের বিশ্লেষণে রদ্রি ১৩টি বিভাগে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিলেও বেলিংহ্যাম ছিলেন ১২টি বিভাগে। অন্যদিকে মেসি ও এমবাপ্পে দুজনই ১৮টি বিভাগে শীর্ষ দশে ছিলেন। গোল, অ্যাসিস্ট, বড় সুযোগ সৃষ্টি, থ্রু বল এবং আক্রমণভাগে প্রভাব বিস্তারের মতো সূচকে তারা রদ্রির তুলনায় অনেক এগিয়ে ছিলেন। অবশ্য রক্ষণাত্মক পরিসংখ্যানে তারা পিছিয়ে ছিলেন, যা তাদের পজিশন বিবেচনায় স্বাভাবিক।

পাওয়ার র‍্যাঙ্কিং অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপের সেরা একক পারফরম্যান্সও ছিল মেসির। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিককে সর্বোচ্চ রেটিং দেয়া হয়েছে। সে কারণেই অনেক বিশ্লেষকের মতে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স বিবেচনায় মেসি কিংবা এমবাপ্পে গোল্ডেন বল পাওয়ার আরও জোরালো দাবিদার ছিলেন।

এ কারণেই আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি প্রশ্ন রদ্রি কি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পুরস্কার পেয়েছেন, নাকি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হওয়ার স্বীকৃতি পেয়েছেন? 

সমালোচকদের একটি অংশের মতে, নেতৃত্বের যুক্তিও খুব শক্তিশালী নয়। কারণ মেসি, এমবাপ্পে এবং বেলিংহ্যামও নিজ নিজ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ফলে বিশ্বকাপজয়ী দলের মূল খেলোয়াড় হওয়ার বিষয়টিই হয়তো শেষ পর্যন্ত রদ্রির পক্ষে কাজ করেছে।

অন্যদিকে সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিয়েও ছিল চমক। বিশ্বকাপ শুরুর আগে অধিকাংশের ধারণা ছিল, লামিন ইয়ামালই এই পুরস্কার জিতবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বার্সেলোনার আরেক তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি সবাইকে পেছনে ফেলে এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।

মাত্র ১৯ বছর বয়সী কুবারসি পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তার নেতৃত্বে স্পেন আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে। ২১ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাস, সবচেয়ে বেশি ক্লিয়ারেন্স এবং মাঠের সব অংশে সবচেয়ে বেশি বল পুনরুদ্ধারের রেকর্ড ছিল তার দখলে। একজন ডিফেন্ডার হয়েও ফাইনাল থার্ডে পাস দেয়ার ক্ষেত্রেও ছিলেন শীর্ষ চারের মধ্যে। বিপরীতে প্রত্যাশা অনুযায়ী ধারাবাহিক প্রভাব ফেলতে না পারায় ইয়ামাল শেষ পর্যন্ত কুবারসির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।

গোলরক্ষকদের মধ্যে গোল্ডেন গ্লাভস জিতেছেন স্পেনের উনাই সিমন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে পুরো টুর্নামেন্টে আর্সেনালের ডেভিড রায়ার পরিবর্তে তার ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্ত সফলও হয়েছে। আট ম্যাচে সাতটি ক্লিন শিট রেখে স্পেনের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সিমন।

যদিও সেভের সংখ্যায় তিনি সবার ওপরে ছিলেন না। পুরো টুর্নামেন্টে তার সেভ ছিল ১০টি, যেখানে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ করেছিলেন ২০টি। তবে প্রত্যাশিত গোলের (এক্সজি) তুলনায় গোল হজমের পরিসংখ্যানে সেরা গোলরক্ষকদের একজন ছিলেন সিমন। পাশাপাশি বক্সের বাইরে বেরিয়ে এসে বিপজ্জনক আক্রমণ নষ্ট করার দক্ষতাও ছিল তার অন্যতম শক্তি। পুরো টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি সুইপার রিকভারি করেছেন তিনি। আধুনিক ফুটবলে যে ধরনের গোলরক্ষকের চাহিদা, সিমন তারই সফল উদাহরণ হয়ে উঠেছেন।

সব মিলিয়ে স্পেন বিশ্বকাপ জিতে দলগত ও ব্যক্তিগত দুই ক্ষেত্রেই সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। তবে গোল্ডেন বল নিয়ে বিতর্কও কমেনি। রদ্রির পারফরম্যান্স বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের অন্যতম ভিত্তি হলেও, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের বিচারে মেসি ও এমবাপ্পের মতো ফুটবলাররা আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। ফলে বিশ্বকাপ শেষ হলেও টুর্নামেন্টসেরার এই লড়াই নিয়ে আলোচনা আরও কিছুদিন চলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

স্কাই স্পোর্টসের পাওয়ার র‌্যাঙ্কিং

খেলোয়াড় দল সর্বমোট পয়েন্ট সার্বিক র‌্যাঙ্কিং
লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ৩১,১৫১ ১০০.০০
কিলিয়ান এমবাপ্পে ফ্রান্স ২৮,১৭২ ৯৭.৬৯
জুড বেলিংহ্যাম ইংল্যান্ড ২১,০৮৬ ৯১.৫৪
উসমান দেম্বেলে ফ্রান্স ২০,৪৫২ ৯০.৯৪
উনাই সিমন স্পেন ১৭,৯৯০ ৮৮.৪৮
আর্লিং হালান্ড নরওয়ে ১৭,৯১৪ ৮৮.৪০
পেদ্রো পোরো স্পেন ১৫,৩৯২ ৮৫.৬৫
মাইকেল ওয়ারজাবাল স্পেন ১৪,৯২৪ ৮৫.১১
আইমেরিক লাপোর্তে স্পেন ১৩,৭০৬ ৮৩.৬৬
পাও কুবারসি স্পেন ১৩,৩৮৬ ৮৩.২৭

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্

1

বিতর্কিত গান নিয়ে ক্ষমা চাইলেন নোরা ফাতেহি

2

হাল্যান্ডের আবেগঘন বার্তা

3

ওমান উপকূলে যাত্রীবাহী নৌকায় গুলিবর্ষণ

4

ট্রাম্প কি আগের চেয়েও বেশি সংকটে?

5

ব্রাজিল ভক্তদের জন্য অস্বস্তিকর এক পরিসংখ্যান, যেখানে এগিয়ে

6

সারা দেশে কালবৈশাখীর আশঙ্কা

7

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী

8

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত

9

রোনালদোর বিশ্বকাপ স্বপ্নের সমাপ্তি, কোয়ার্টারে স্পেন

10

ইরান যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রেকর্ড পরিমাণ খরচ প্রকাশ

11

২০৩০ বিশ্বকাপে কেউ আর আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলকে সাপোর্ট করবে

12

প্রতারণা মামলায় ফের গ্রেফতার তৌহিদ আফ্রিদি

13

ফরিদপুরে মা-মেয়েসহ ৩ জনকে কুপিয়ে হত্যা

14

বিশ্বকাপের শেষ ষোলো চূড়ান্ত, কে কার প্রতিপক্ষ, জেনে নিন

15

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে শীর্ষে মেসি

16

এয়ার চায়নার ৪টি ফ্লাইট বাতিল

17

হতাশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট, বললেন ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন’

18

সংস্কারের বকেয়া রেখে হালখাতা

19

বিসিসির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করল নির্বাচন কমিশন

20