ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কমছেই না শিশু নির্যাতন

প্রতীকী ছবি

দেশে শিশু নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। ঘর থেকে শুরু করে স্কুল, খেলার মাঠ, এমনকি নিকট আত্মীয়দের মধ্যেও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। দৈনিক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনার খবর প্রকাশ পাচ্ছে, যা সমাজে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জেলায় ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। ঢাকার নয়াপল্টনে স্কুলের ভেতরে শিশুকে নির্যাতনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া সীতাকুণ্ডে শিশু অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, কুমিল্লায় স্কুলছাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনা এবং কুষ্টিয়ার একটি মাদ্রাসায় ধর্ষণের অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এসব অপরাধ পরিচিত বা নিকটজনদের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু নির্যাতনের অনেক ঘটনা প্রকাশ হতে দীর্ঘ সময় লাগে, ফলে ভুক্তভোগীরা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর তথ্য অনুযায়ী, এক মাসেই নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ধর্ষণ, হত্যা ও যৌন নির্যাতনের ঘটনাও রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হচ্ছে, শিশু নির্যাতনের একটি বড় অংশই কন্যাশিশুদের পাশাপাশি ছেলেশিশুরাও ভোগ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিশু নির্যাতনের পেছনে অন্যতম কারণ হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সামাজিক সচেতনতার অভাব, অনলাইন পর্নোগ্রাফির সহজলভ্যতা এবং পারিবারিক পর্যায়ে নজরদারির ঘাটতি। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ছে, যেখানে বিভিন্ন অপরাধচক্র সক্রিয় রয়েছে।

দুঃখজনকভাবে কিছু ঘটনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা অভিভাবকদের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ঘটনা শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

সরকার শিশু নির্যাতন মামলার তদন্ত ১৫ দিনের মধ্যে এবং বিচার ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে মানবাধিকারকর্মীদের মতে, শুধু আইন নয়, এর সঠিক প্রয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

শিশু নির্যাতন কমাতে হলে সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন ফটোশুটে অপু বিশ্বাস, রহস্যময় বার্তায় ভক্তদের কৌতূহল

1

দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

2

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আশিক রুবাইয়াতের পদত্যাগ

3

শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের মামলার প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

4

কিয়েভে রাশিয়ার হামলায় স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত : মেয়র

5

শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে আওয়ামী লীগ:

6

রমনায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচ্ছন্নতা অভিযা

7

বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার ৫টি প্রধান কারণ

8

সুইডেনের কাছে বড় হারের পর কোচ ছাঁটাই করল তিউনিসিয়া

9

পাগলা মসজিদে ৬ মাসে মিলল ১৬ কো‌টি টাকা

10

আয়োজকরা চায় আমরা বাদ পড়ি : ফিফা সভাপতিকে ইরান অধিনায়ক

11

বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

12

মেসির সঙ্গে খেলতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি: নেইমার

13

পরের রাউন্ডে যেতে ব্রাজিলের সামনে যে সমীকরণ

14

এফডিআরের ৬২ কোটি টাকা সিইওর কবজায়

15

ইতিহাস বলছে, এবার বিশ্বকাপ জিতবে আর্জেন্টিনা

16

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলে অবদান রাখা শীর্ষ ৫ ফুটবলার

17

চীনের শানসি খনি দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে রোবট মোতায়েন

18

হরমুজ প্রণালিতে কড়া নিয়ন্ত্রণে ইরান

19

মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন অর্জন পাকিস্তানের

20