দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে সরকার গঠনের পর এবার দলীয় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে সক্রিয় করতে আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়া ৮২টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড, স্থানীয় সমস্যা, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পর্কে মতামত নেবেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম বড় সাংগঠনিক বৈঠক হতে যাচ্ছে।
বিএনপির নেতাদের মতে, নির্বাচনের পর অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে শৈথিল্য তৈরি হয়েছে। কেন্দ্র ও তৃণমূলের মধ্যে সমন্বয় দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি কমে গেছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়হীনতার ঘটনাও বাড়ছে বলে মনে করছেন তারা।
দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা জরুরি হয়ে পড়েছে। এজন্য সরকারে না থাকা সিনিয়র নেতাদের আরও সক্রিয় করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পুনর্গঠন এবং সাংগঠনিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অন্যান্য দলও। বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিভিন্ন এলাকায় একক প্রার্থী নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপি সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, জেলা ইউনিটগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিমূলক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আজকের সভায় তারেক রহমান সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার এবং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।
মন্তব্য করুন