ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সরাসরি সামরিক সংঘাতে প্রস্তুত ইরান

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে যেতে প্রস্তুত থাকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi বলেছেন, চলমান উত্তেজনার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়, এর অর্থনৈতিক চাপ সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনেও পড়ছে।

Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর আর্থিক মূল্য শেষ পর্যন্ত আমেরিকান জনগণকেই দিতে হবে। পোস্টের সঙ্গে তিনি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির একটি পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেন।

ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়, ফলে সংকটের প্রভাব দ্রুত বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি আরও বলেন, শুধু জ্বালানির দামই নয়, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও ঋণের সুদের হার বৃদ্ধিও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করবে। তার মতে, গাড়ির ঋণ খেলাপির হার ইতোমধ্যে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধের শঙ্কা অব্যাহত থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে এবং অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার Mohammad Bagher Ghalibaf যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে একটি “অভিনয়ধর্মী যুদ্ধ” পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে নতুন বৈশ্বিক আর্থিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ৩০ বছর মেয়াদি ২৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড প্রায় ৫ শতাংশ সুদে বিক্রি করেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারও বেড়ে এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আরও বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে বাধ্য হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় সবচেয়ে বড় অচলাবস্থার বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। ইরান এই জলপথে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতির দাবি জানালেও উপসাগরীয় দেশগুলো এটিকে আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে বজায় রাখতে চায়।

এদিকে ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান Ebrahim Azizi জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি নীতিমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী জাহাজগুলো বিশেষ সুবিধা পাবে এবং নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের শর্ত রাখা হতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অনুশীলনে মেসির শটে ভাঙল ফটোগ্রাফারের ক্যামেরা

1

বিয়েটা ছিল ভুল সিদ্ধান্ত : অপু বিশ্বাস

2

এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন জুনায়েদ ও রাফে সালামান

3

আপিলেও বাতিল মনিরা শারমিন-এর মনোনয়নপত্র

4

অর্থনীতির সব সূচকই চাপে: মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রিজার্ভে টান

5

মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন করা হবে: স্বে

6

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক মেরে খাওয়ার ঘটনা শুনে অবাক তা

7

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

8

ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি যেমন চলছে

9

নতুন বাসভাড়া কার্যকর

10

সিলেটে সুরমা নদী উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, ৪,৬৩

11

মাতৃত্বে নারীর মস্তিষ্কে ঘটে বিস্ময়কর পরিবর্তন

12

যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকে ঢুকলে দেখা যাচ্ছে নতুন বার্তা

13

নারী সংরক্ষিত আসনে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপির

14

যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

15

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের চলচ্চিত্র রক্তছায়া

16

রামিসা হত্যায় আসামিপক্ষে লড়বেন না কোনো আইনজীবী

17

ফেসবুক পোস্টে যেসব অভিযোগ জানালেন আমির হামজা

18

কাঠমান্ডুর দক্ষিণ এশিয়া বাণিজ্য মেলায় বড় আকর্ষণ বাংলাদেশ প্য

19

‘আমি বিসিবির বৈধ সভাপতি’

20