দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল বা জেট ফুয়েলের দাম আবারও কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) লিটারপ্রতি ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা মূল্য কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে। এর ফলে বিমান পরিবহন খাতের জ্বালানি ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, নতুন মূল্য আজ দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। এর আগে গত মাসে দুই দফায় জেট ফুয়েলের দাম মোট ৬১ টাকা ১২ পয়সা কমানো হয়েছিল। ফলে টানা কয়েক দফা সমন্বয়ের মাধ্যমে জেট ফুয়েলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা। আগে এই দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে একই জ্বালানির দাম ছিল মাত্র ৯৫ টাকা ১২ পয়সা প্রতি লিটার।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রেও জেট ফুয়েলের দাম কমানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটারে ১.০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ০.৯৮০৮ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যপতনকে এই দাম কমানোর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আবার নিম্নমুখী হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগে জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এই দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকে কমিশন নিয়মিত গণশুনানি ও আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতি মাসে জেট ফুয়েলের মূল্য সমন্বয় করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ফুয়েলের দাম কমায় বিমান সংস্থাগুলোর পরিচালন ব্যয় কিছুটা কমবে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাত্রী ভাড়া ও বিমান পরিবহন খাতের সামগ্রিক ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মন্তব্য করুন