চীনের তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নতুন মানববাহী মিশন পাঠানো হয়েছে। এই অভিযানে অংশ নেওয়া তিন মহাকাশচারীর মধ্যে একজনকে টানা এক বছর মহাকাশে রাখা হবে, যা চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ মানব মহাকাশ মিশন হিসেবে বিবেচিত হবে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় মহাকাশে মানুষের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যেই এই বিশেষ গবেষণা পরিচালনা করছে বেইজিং। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষকে চাঁদে পাঠানোর উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে দেশটি।
স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৮ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে শেনঝৌ-২৩ মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। এ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে লং মার্চ-২ এফ ওয়াই২৩ রকেট।
মিশনে রয়েছেন কমান্ডার ঝু ইয়াংঝু, পাইলট ঝ্যাং ইউয়ানঝি এবং পে-লোড বিশেষজ্ঞ লি জিয়াইং। বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন লি জিয়াইং, কারণ তিনি হংকং থেকে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে চীনের মহাকাশ মিশনে অংশ নিচ্ছেন।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিন নভোচারীর মধ্যে একজন পুরো এক বছর তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে অবস্থান করবেন। যদিও এটি এখনো ১৯৯৫ সালে এক রুশ নভোচারীর গড়া সাড়ে ১৪ মাসের বিশ্বরেকর্ড অতিক্রম করতে পারবে না। কে দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকবেন, সে সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মিশন শুধু বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্যই নয়, বরং মহাকাশ প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার অংশ। বর্তমানে চাঁদে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, চীন ভবিষ্যতে চাঁদের সম্পদ আহরণ এবং সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তাদের মহাকাশ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গবেষণাভিত্তিক।
মন্তব্য করুন