বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফর এনহ্যান্সিং ইকোনমিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড স্টেবল এনার্জি সাপ্লাই’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ঋণ দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন উদ্যোগকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাপান সরকারের ‘পার্টনারশিপ অন ওয়াইড এনার্জি অ্যান্ড রিসোর্সেস রেজিলিয়েন্স এশিয়া (POWERR Asia)’ উদ্যোগের অধীনে এটি প্রথম সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) ঋণ। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এশিয়ার দেশগুলোকে জ্বালানি সরবরাহ-সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় সহায়তা প্রদান করা।
ঋণচুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং জাইকা বাংলাদেশ অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো স্বাক্ষর করেন। একই অনুষ্ঠানে নোট বিনিময় (এক্সচেঞ্জ অব নোটস) চুক্তিতে সই করেন ইআরডি সচিব এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি।
এই ঋণ কর্মসূচি মূলত দুটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথমত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহনশীলতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন আরও শক্তিশালী করা। এর আওতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর টেকসই পরিচালনা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নত পরিকল্পনা এবং জ্বালানি সাশ্রয়মূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহ-অর্থায়নে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও সুশাসনসংক্রান্ত সংস্কার কার্যক্রমেও সহায়তা দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সহায়তা দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে, জ্বালানি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের সময়ে এই ঋণ সহায়তা বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় জাইকার ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
মন্তব্য করুন