সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী-কে আদালতে হাজির করার পর তার বিরুদ্ধে করা দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেছেন বিচারক। মঙ্গলবার দুপুরের দিকে তাকে আদালতে তোলা হলে শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানের সময় সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনায় রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। রিমান্ড আবেদনে পুলিশ উল্লেখ করে যে, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিরীন শারমিন চৌধুরীর ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। অভিযোগ করা হয়, মামলার অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে পরিকল্পনা ও নির্দেশনার মাধ্যমে তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এই মামলায় আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও আসামি অনেক প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্তসহ ঘটনার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।
পুলিশ আশঙ্কা প্রকাশ করে জানায়, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন এবং তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এজন্য মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই লালবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয় এবং এতে দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আজিমপুর সরকারি কলোনি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, যাতে বহু হতাহতের পাশাপাশি একজনের দৃষ্টিশক্তি হারানোর অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এরপর ২ সেপ্টেম্বর স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় ধরে এই দায়িত্ব পালন করেন। রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
সবমিলিয়ে, রিমান্ড নামঞ্জুরের মাধ্যমে মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে এবং এখন আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
মন্তব্য করুন