ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

চোখের পাতার টিউমারের কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা

ফাইল ছবি

চোখের পাতায় অস্বাভাবিকভাবে গুটি, মাংসপিণ্ড বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি হলে তাকে সাধারণভাবে চোখের পাতার টিউমার বলা হয়। তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা, কারণ কিছু টিউমার ক্যানসারজনিত হতে পারে এবং দেরিতে চিকিৎসা নিলে আশপাশের টিস্যু ও চোখের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

চোখের পাতার টিউমার প্রধানত দুই ধরনের হয়—সৌম্য (Benign) ও ম্যালিগন্যান্ট (Malignant)। সৌম্য টিউমার সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং জীবনহানির ঝুঁকি কম থাকে। তবে এটি দৃষ্টিতে বাধা সৃষ্টি করলে বা অস্বস্তি তৈরি করলে চিকিৎসার মাধ্যমে অপসারণ করা প্রয়োজন হতে পারে। অন্যদিকে বেসাল সেল কার্সিনোমা, স্কোয়ামাস সেল কার্সিনোমা এবং সেবাসিয়াস গ্ল্যান্ড কার্সিনোমার মতো ম্যালিগন্যান্ট টিউমার দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা করা অত্যন্ত জরুরি।

এই রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে চোখের পাতায় স্থায়ী গুটি বা ফোলা, দীর্ঘদিন ধরে লালভাব, সহজে না শুকানো ক্ষত, রক্তপাত, চোখের পাপড়ি ঝরে যাওয়া এবং চোখের পাতার স্বাভাবিক আকৃতির পরিবর্তন। অনেক সময় এসব লক্ষণকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা হয়, যা পরবর্তীতে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

চোখের পাতার টিউমারের ঝুঁকির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। দীর্ঘ সময় সূর্যের অতিবেগুনি (UV) রশ্মির সংস্পর্শে থাকা একটি প্রধান কারণ। এছাড়া বংশগত প্রবণতা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং কিছু জিনগত পরিবর্তনও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই বাইরে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে চোখকে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমে চক্ষু বিশেষজ্ঞ চোখ পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে টিউমারের প্রকৃতি নির্ধারণে বায়োপসি করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসার প্রধান পদ্ধতি হলো অস্ত্রোপচার, যার মাধ্যমে টিউমার সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয় এবং চোখের পাতার স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। রোগের ধরন অনুযায়ী রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি বা ক্রায়োথেরাপিরও প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসার পর নিয়মিত ফলোআপ করা জরুরি, কারণ কিছু ক্ষেত্রে টিউমার আবারও দেখা দিতে পারে।

চোখের পাতায় কোনো অস্বাভাবিক গুটি, দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত, রক্তপাত বা পাপড়ি ঝরে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু করলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব এবং জটিলতা অনেকাংশে এড়ানো যায়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মে মাসে ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

1

স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের চমক

2

এবার বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন ভোজিনহা

3

সীমান্ত হত্যাকাণ্ড আর মেনে নেবে না সরকার

4

বিশ্বকাপে কি দেখা যাবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মহারণ

5

এইচএসসিতে নকল পেলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানও শাস্তির মুখে

6

দাদির ভিডিও বার্তা দেখে কাঁদলেন ভিনিসিয়ুস

7

আওয়ামী লীগ শুধু বিতাড়িত নয়, দেউলিয়াও: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

8

জীবন ও সম্মান বাঁচাতে চুপ ছিলাম: মাহফুজ আলম

9

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি নাকচ করল ইরান

10

মেসির বোঝা কমাতে আর্জেন্টিনার একাদশে আসছে ৩ বদল

11

গোল্ডেন বুট দৌড়ে তীব্র লড়াই: মেসি-এমবাপে-হলান্ড কারা এগিয়

12

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটল থাকবে: শি জিনপিং

13

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী দৌড়ে এগিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

14

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ মরক্কোর

15

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আমাদের তারুণ্য

16

চুক্তিতে পৌঁছাতে কোনো তাড়া নেই : ট্রাম্প

17

আজ থেকে ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্ক কার্যকর

18

‘সংসদ কোনো ফাইজলামির জায়গা না : ইলিয়াস

19

সাত ধরনের খাবার খেলে ৭০ বছরেও তারুণ্য ধরে রাখতে পারবেন

20