বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত গতিতে স্বর্ণের মজুত বাড়াচ্ছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এই প্রবণতার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে আবারও “নিরাপদ সম্পদ” হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে সামনে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে চীন, ভারত, তুরস্ক এবং পোল্যান্ড-এর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি স্বর্ণ ক্রয় করছে। বিশেষ করে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বৈদেশিক রিজার্ভকে আরও স্থিতিশীল করতে স্বর্ণের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে চলতি বছরে স্বর্ণের দাম এক ট্রয় আউন্সে ৫ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত দেড় বছরে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর উচ্চ চাহিদাও বড় ভূমিকা রাখছে।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল–এর তথ্য অনুযায়ী, টানা তিন বছর ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বছরে ১ হাজার মেট্রিক টনের বেশি স্বর্ণ কিনছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জব্দ করলে অনেক দেশ ডলার ও ইউরোর ওপর নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। এরপর থেকেই স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রবণতা তীব্র হয়।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বর্ণ আবারও সংকটকালীন নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও এটি সুদ বা আয় দেয় না এবং সংরক্ষণে অতিরিক্ত খরচ রয়েছে, তবুও এটি রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে মুক্ত।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দায় নয় এবং সহজেই নগদে রূপান্তরযোগ্য হওয়ায় এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য রিজার্ভ সম্পদ। তাই অনেক দেশ এখন তাদের রিজার্ভ কৌশলে স্বর্ণকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রাখছে।
বিশেষ করে চেক প্রজাতন্ত্র ও অন্যান্য কিছু দেশও আগামী কয়েক বছরে স্বর্ণ মজুত আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক চাপ এবং মুদ্রা ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বর্ণ আবারও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনেও এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
মন্তব্য করুন