ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীতে মাছের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে মধ্যবিত্ত ক্রেতারা

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মাছের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রুই, কাতল, চিংড়ি, পাবদা ও ইলিশের মতো জনপ্রিয় মাছের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ক্রেতার জন্য নিয়মিত মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সংসারের ব্যয় সামাল দিতে অনেক পরিবার মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

শুক্রবার যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মাছই আগের তুলনায় উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামের মাছ বাজারে থাকলেও পছন্দের মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বর্তমানে তেলাপিয়া মাছ প্রতি কেজি ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষের কই মাছ ২২০ টাকা, চেওড়া ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিলভার কার্পের দাম ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মিরর কার্প ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে মাঝারি আকারের পাবদা মাছের কেজি ৪৫০ টাকা। পোয়া মাছের দাম আকারভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টেংরা মাছ ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মাগুর মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

জনপ্রিয় রুই ও কাতল মাছের দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে এসব মাছের কেজি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের কাতল মাছের ক্ষেত্রে দাম ৬৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। চাষের চিংড়ি প্রতি কেজি ৯০০ টাকা হলেও বড় গলদা চিংড়ির দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সবচেয়ে বেশি মূল্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে ইলিশের বাজারে। ছোট আকারের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ইলিশ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি মাছের বাজারেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। যাত্রাবাড়ী এলাকার ক্রেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আগে যে বাজেটে পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত মাছ কেনা যেত, এখন সেই টাকায় অর্ধেক পরিমাণও কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শনিরআখড়ার বাসিন্দা হাপসা বেগম জানান, সন্তানদের পুষ্টির কথা চিন্তা করে মাছ কিনতে হলেও এখন পরিমাণ কমিয়ে আনতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সব ধরনের মাছের সরবরাহ এখনো স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আড়তে বেশি দামে মাছ কিনতে হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। তাদের আশা, বর্ষা মৌসুমে নদী ও খামারের মাছের সরবরাহ বাড়লে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

তবে আপাতত রাজধানীর মাছের বাজারে উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তিই বেশি চোখে পড়ছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরে এলো ৬৮ হাজার টন ডিজেল

1

খালেদা জিয়ার সাজে চমক দেখালেন চমক, নেটিজেনদের প্রশংসা

2

এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীর ছেলে ড. নাদিম

3

প্রার্থী বাছাইয়ে দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি

4

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যে শালীনতা পাই না : এ্যানি

5

ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে ৭ জুন খুলছে স্কুল-কলেজ

6

ফাইনালে গুরু-শিষ্যের লড়াই, মুখোমুখি ফুয়েন্তে ও স্কালোনি

7

জাপানের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেবে ব্রাজিল: জার্মান

8

সৌদির বিপক্ষে ১-১ সমতায় ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে উরুগুয়ের

9

৩৭৫ সিসি মোটরসাইকেল আমদানির নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগ

10

অনুপ্রবেশকারীদের আদালত নয় সরাসরি সীমান্তে : শুভেন্দু

11

যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে বিতর্ক ও সরকারের অব

12

ইবির বাসে মারধরকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর

13

ড. ইউনূসসহ ২৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে রিট

14

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব

15

চোটে বিশ্বকাপে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় গ্যানাব্রি

16

বিশ্বকাপের যে অনন্য কীর্তি এখন শুধুই মেসির

17

সময় চাওয়ায় স্পিকার বললেন, বাকি চাহিয়া লজ্জা দেবেন না

18

ইতালিতে ভাই হত্যা, নেপথ্যে দুই স্ত্রীর চক্রান্ত

19

চোখের জলে বিশ্বমঞ্চকে রোনালদোর বিদায়

20