ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হাঁটুর ইনজুরিতে আধুনিক চিকিৎসা ও আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি

হাঁটু শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জয়েন্ট, যা স্থিতিশীল ও সচল রাখতে ভেতর ও বাইরে মিলিয়ে মোট চারটি লিগামেন্ট এবং দুটি মিনিস্কাস কাজ করে। খেলাধুলা বা দৈনন্দিন জীবনের দুর্ঘটনায় এই লিগামেন্ট ও মিনিস্কাস আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে, যার মাত্রা হতে পারে মৃদু, মাঝারি বা তীব্র।

বিশেষ করে তীব্র আঘাতের ক্ষেত্রে হাঁটুর ভেতরের লিগামেন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অনেক সময় তা সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বরফ প্রয়োগ এবং আক্রান্ত পা সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এরপর এক্স-রে এবং এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে আঘাতের সঠিক অবস্থা নির্ণয় করা হয়।

চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে রোগীর উপসর্গ দেখেই ইনজুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বাকি ক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়ার জন্য এমআরআই পরীক্ষা করা হয়। লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হাঁটতে গিয়ে হাঁটু বেঁকে যাওয়া, অস্থিরতা অনুভব করা এবং দীর্ঘদিন অবহেলায় পেশি দুর্বল হয়ে পড়া।

বাইরের লিগামেন্টে হালকা আঘাত থাকলে বিশ্রাম ও নির্দিষ্ট ব্যায়ামের মাধ্যমে তা সেরে উঠতে পারে। তবে ভেতরের লিগামেন্ট পুরোপুরি ছিঁড়ে গেলে তা স্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগে না। এ ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে নতুন লিগামেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।

এই পদ্ধতিতে হাঁটু বা আশপাশের অংশ থেকে টিস্যু নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে স্থাপন করা হয়। এটি একটি মিনি-ইনভেসিভ সার্জারি, যেখানে মাত্র দুই থেকে তিনটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। ফলে রক্তক্ষরণ কম হয়, ব্যথাও তুলনামূলকভাবে কম থাকে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত কম।

অনেক ক্ষেত্রে রোগী অপারেশনের দিনই হাঁটাচলা শুরু করতে পারেন এবং কয়েক দিনের মধ্যে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। ইনফেকশনের ঝুঁকি অত্যন্ত কম—প্রায় শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশের কাছাকাছি বলে ধরা হয়।

তবে খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে পূর্ণ সুস্থতার জন্য রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক ফিজিওথেরাপি ও ব্যায়াম না করলে হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া বা জয়েন্টে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সাধারণত তিন মাসের মধ্যে হালকা অনুশীলন শুরু করা যায় এবং ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে লিগামেন্ট পুরোপুরি শক্তিশালী হয়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু চিকিৎসাই নয়, ইনজুরি প্রতিরোধে শারীরিক ও মানসিক ফিটনেস বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। যাদের লিগামেন্ট স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে ইনজুরির ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই সঠিক প্রশিক্ষণ, সতর্কতা এবং নিয়মিত ব্যায়াম হাঁটুর স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের ম্যাচ মেক্সিকোতে স্থানান্তরের দাবি

1

গাজায় প্রতিদিন গড়ে ৪৭ নারী ও কন্যাশিশু নিহত: জাতিসংঘ

2

বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ, জিততে হবে কত রানএ

3

শর্ত মানছে না ইসরাইল, লেবাননে ব্যাপক হামলায় নিহত ১০

4

অফসাইড বিতর্ক কমাতে নতুন প্রযুক্তির যুগে ফিফা

5

ঋণ থাকলে কি কোরবানি হবে, ইসলাম কী বলে

6

মানসিক চাপ বাড়ায় নিখুঁত হওয়ার অতিরিক্ত প্রচেষ্টা

7

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

8

যুদ্ধের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে আত্মহত্যা

9

পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে কড়া সতর্কতায় বিজিবি

10

আচরণবিধি লঙ্ঘনে শাস্তি পেলেন নাহিদা ও শারমিন

11

‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখার মামলায় বাবা-ছেলে কারাগারে

12

দক্ষিণ সুদানে বিমান বিধ্বস্ত: পাইলটসহ নিহত ১৪

13

হাসনাতের ওপর হামলার নিন্দা জানাল যুবশক্তি

14

সাংবাদিকদের ক্যামেরায় কথা বলতে চান না কুড়িগ্রামের ডিসি, ধরে

15

গরমে আখের রস পান করার আগে জেনে নিন নিরাপত্তার বিষয়

16

‘নিজেকে কন্ট্রোল করো!’ সালমানের কাছে ধমক খেলেন করণ জোহর

17

ইয়েমেন ইস্যুতে ইরানের নীতি অপরিবর্তিত থাকবে: ইসমাইল বাকায়ি

18

‘সবকিছুই তার ইচ্ছের ওপর’, ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির খেলা প্রসঙ্গে

19

রোবট কুকুরে মাস্ক-জাকারবার্গ থেকে কিম জং উন

20