ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি আফ্রিকা) শনিবার (১৬ মে) জানায়, এখন পর্যন্ত দেশে ৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩৩৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে এটিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। সংস্থাটি জানায়, এটি ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনের প্রাদুর্ভাব এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিধিমালার অধীনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরের অন্তর্ভুক্ত।
তবে ডব্লিউএইচও এটিকে এখনো পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে ঘোষণা করেনি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা এবং সংক্রমণের বিস্তার এখনো সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার নয়। ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা দ্রুত বড় পরিসরে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি এই পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে অভিহিত করেছে।
ডিআর কঙ্গোর স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যামুয়েল-রজার কাম্বা বলেন, এই ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর চিকিৎসা নেই এবং এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য টিকাও নেই। তার মতে, কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কঙ্গোতে ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তবর্তী ইতুরি প্রদেশে প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যেখানে একজন নার্স প্রথম রোগী হিসেবে চিহ্নিত হন।
স্থানীয়রা জানান, অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা না থাকায় আক্রান্তরা বাড়িতেই মারা যাচ্ছেন এবং পরিবারের সদস্যরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার না করা হলে এই প্রাদুর্ভাব আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।
মন্তব্য করুন