দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে ঢাকাসহ ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো সম্পর্ক নেই।
সোমবার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো রয়েছে। তবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও আওয়ামী লীগের কিছু অপতৎপরতার তথ্য পাওয়ায় সরকার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকটি জেলায় মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচির প্রস্তুতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব কর্মকাণ্ড থেকে অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আজ থেকে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকায় সেনাসদস্যদের ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেনা মোতায়েনের অর্থ পুলিশ বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতা নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অতীতেও সরকার বিজিবি কিংবা সেনাবাহিনীর সহায়তা নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের পর গত ১৫ জুন সেনাবাহিনীকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান অবস্থার কোনো মিল নেই। যেসব এলাকায় অপতৎপরতার আশঙ্কা রয়েছে, কেবল সেসব এলাকাতেই সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের এক সংসদ সদস্যের ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে বৈঠকে এক হিন্দু নারীর পৃথক প্রদেশের বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি সম্ভবত ‘স্লিপ অব টাং’। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে এবং অতিউৎসাহী বক্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর বেআইনি কর্মসূচি, মিছিল ও শোডাউনের মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে জননিরাপত্তা ও জানমালের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
চিঠি অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলায় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন