গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনা এবং ২০৪০ সালের মধ্যে নেট শূন্য নিঃসরণ অর্জনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
তবে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই সপ্তাহেই সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ব্যাপক ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভ্রমণের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় সংস্থাটির পরিবেশবান্ধব প্রতিশ্রুতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
বিবিসি ভেরিফাই ও বিবিসি স্পোর্টসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১১ থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ইনফান্তিনো ২৪টি ম্যাচে উপস্থিত ছিলেন। এই সময়ে তার একটি ‘ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ’ ২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে।
বিমান চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি অন্তত ৩১ হাজার ১৪৪ মাইল বা ৫০ হাজার ১২২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে এবং আকাশে ছিল ৬৬ ঘণ্টারও বেশি। ১৩ জুন ভ্যাঙ্কুভার থেকে মায়ামি পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০৭ কিলোমিটারের যাত্রা ছিল তার দীর্ঘতম। আর ১৫ জুন এক দিনেই মায়ামি, সিয়াটল ও লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ দেখতে তিনি প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার উড়ে বেড়িয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনো সম্ভবত গালফস্ট্রিম জি৬৫০ইআর মডেলের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ব্যবহার করছেন। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ১ হাজার ৮১৭ লিটার জ্বালানি পোড়ানো এই উড়োজাহাজ থেকে আনুমানিক ৫১৬ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য নিঃসরণ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ নিঃসরণ গড়ে ৭৮ জন মানুষের এক বছরের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সমান।
ফিফার ভাষ্য, প্রয়োজন অনুযায়ী সভাপতি কখনও বাণিজ্যিক, আবার কখনও ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেন। তবে বিশ্বকাপ চলাকালে কোনো কোনো সফরে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে কতজন ছিলেন কিংবা এই বিপুল কার্বন নিঃসরণ কমাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থাটি নীরব। ফলে পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার আর বাস্তব কর্মকাণ্ডের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে। ইনফান্তিনোর এই বিশ্বকাপ সফর যেন সেটিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।