অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

জ্বালানি সংকটে এশিয়ার শেষ ভরসা কয়লা

ছবি: সংগৃহীত



যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আবারও ব্যবহার বাড়ছে কয়লার। বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি আমদানির পরিবর্তে কয়লার দিকে ফিরছে।

ফলে বিশ্বজুড়ে লাভবান হচ্ছে কয়লা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।
দক্ষিণ আফ্রিকার তাপীয় কয়লা উৎপাদক থুঙ্গেলা রিসোর্সেস জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশে কয়লার চাহিদা ও দাম বাড়ায় চলতি বছরের প্রথমার্ধে তাদের মুনাফা দ্বিগুণ হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। এর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ফলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ কমার সাথে সাথে বেড়েছে দামও। এ অবস্থায় তুলনামূলক সস্তা ও সহজলভ্য হওয়ায় অনেক দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে আবার কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে এশিয়ায়। এক বিশ্লেষণে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার বলছে, চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ এশিয়ার দেশগুলো উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করে।

যুদ্ধের মধ্যে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।

জ্বালানি তথ্য সংস্থা এমবারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বে কয়লা উৎপাদন ২০২৫ সালের তুলনায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে।

এদিকে জাপান পুরোনো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের পরিকল্পনা পিছিয়েছে।

বাংলাদেশেও শুরুতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত ও জ্বালানি রেশনিংয়ের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে।

থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামও গ্যাসের মজুদ রক্ষায় কয়লার ব্যবহার বাড়িয়েছে।

পাকিস্তানে জুলাই পর্যন্ত আমদানি করা কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে ভারত নতুন কয়লাখনি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকায় অনেক দেশ জরুরি পরিস্থিতিতে কয়লার দিকে ফিরছে। 

তাদের মতে, ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট এড়াতে এশিয়ার দেশগুলোকে দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুতায়নের দিকে এগোতে হবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগ্রাসনে ইরানের ক্ষতি ২৭০০ কোটি ডলার

1

ঘুষ ছাড়া সেবা মেলে না!

2

মারা গেছেন এনসিপি নেত্রী রাফিয়া সুলতানা

3

দান-সদকা কোথায় করবেন, কোথায় করবেন না

4

সারপ্রাইজ দিতে প্রেমিকের গাড়িতে ৩৪০০ চুমু প্রেমিকার, পুলিশের

5

তুমি চাইলে আমার গোল্ডেন বলটা নিতে পারো: মেসি

6

আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ মিসরের ভাগ্য বদলেছেন যমজ দুই ভাই

7

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও দূরে

8

আগামী দিনের ফুটবল তারকা কারা, ১০ প্রতিভার নাম প্রকাশ মেসির

9

রেকর্ড ছুঁয়ে ২০৭৪ কোটি টাকায় ম্যান সিটিতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিন

10

৫ দিন অনশনের পর বিয়ে, ৩ মাসের মাথায় মোনিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্

11

টাকা ছাপানোর গুজব উড়িয়ে দিলেন গভর্নর

12

কালো টাকা বৈধ করার সুযোগে বাড়বে বৈষম্য

13

মিসরের অভিযোগ নাকচ করলো ফিফা

14

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার আহ্বান মাখোঁর

15

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

16

স্পিকার হিসেবে রেকর্ড ভোট পেয়ে আবারো নির্বাচিত কালিবাফ

17

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোল কি গোল্ডেন বুটের হিসাবে যো

18

স্পেসএক্সের আইপিওতে শেয়ার মূল্য ১৩৫ ডলার

19

দ্রুত পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

20