জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী মনোনয়নে পরিবারতন্ত্র নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংসদে গিয়ে একজন নারী প্রার্থী নারী সমাজ ও দেশের স্বার্থে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, সেটিই হবে মনোনয়নের প্রধান মানদণ্ড।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যশোরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর–কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, জামায়াত এমন প্রার্থী নির্বাচন করবে যারা জাতীয় পর্যায়ে জনগণের কথা শক্তভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হবেন এবং এখানে কোনো “পরিবারতন্ত্রের সুযোগ” থাকবে না।
তিনি আরও দাবি করেন, দলটি এমন প্রার্থী নির্বাচন করছে যারা সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই এ বিষয়ে জনগণ বাস্তবতা বুঝতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জামায়াতের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে মোবারক হোসেন জানান, দলীয় এমপিদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য একটি পৃথক প্রশিক্ষণ সেল কাজ করছে। এর উদ্দেশ্য হলো সংসদ এবং সংসদের বাইরে জনগণের সমস্যা ও বঞ্চনা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের বিভিন্ন পর্যায়ে জামায়াত কাজ করছে এবং ছায়া মন্ত্রিসভার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি।
বিরোধী দলের ভূমিকা ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় নানা ধরনের বাধার মুখে পড়েন। তবে জামায়াতের এমপিরা যাতে উন্নয়ন কার্যক্রমে পিছিয়ে না পড়েন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মোবারক হোসেন বলেন, শক্তিশালী সংবাদ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেশের পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। রাষ্ট্র সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও বাড়ানো উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা সেক্রেটারি আবু জাফর সিদ্দিকী, সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের, সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, দপ্তর সম্পাদক নুর-ই আলী নুর মামুন এবং প্রচার সেক্রেটারি শাহাবুদ্দিন বিশ্বাসসহ স্থানীয় নেতারা।
মন্তব্য করুন