ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা

প্রতীকী ছবি

নিখুঁত ভাষার ফিশিং ইমেইল থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদের ভুয়া ভিডিও তৈরি—সব ক্ষেত্রেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য নতুন ও জটিল হুমকি তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুরে ইন্টারপোলের উচ্চপ্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো হচ্ছে।

ইন্টারপোলের সাইবার অপরাধবিষয়ক পরিচালক নীল জেটন জানিয়েছেন, সাইবার অপরাধীদের হাতে এআইয়ের ‘অস্ত্রীকরণ’ বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। তার মতে, অপরাধীরা প্রযুক্তিটিকে যেভাবে পারছে সেভাবেই ব্যবহার করছে, যার ফলে সাইবার হামলার ধরন আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছেন, এই ধরনের হামলার পরিমাণ ভবিষ্যতে আরও বাড়বে।

এআই প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধীরা এখন খুব সহজেই পরিচিত ব্যক্তিদের কণ্ঠ ও ভিডিওর উন্নতমানের নকল তৈরি করতে পারছে। এসব ডিপফেক ব্যবহার করা হচ্ছে ভুয়া বিনিয়োগ, প্রতারণামূলক প্রচারণা এবং আর্থিক জালিয়াতির কাজে। পাশাপাশি নিখুঁত ভাষায় লেখা ফিশিং ইমেইল তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডার্ক ওয়েব থেকে সহজেই হ্যাকিং টুল, ম্যালওয়্যার ও প্রতারণার সফটওয়্যার কেনা যাচ্ছে। ফলে কম দক্ষ অপরাধীরাও সহজে সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। এতে স্মার্টফোন ব্যবহারকারী প্রায় সবাই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত ইন্টারপোল গ্লোবাল কমপ্লেক্স ফর ইনোভেশন থেকে এই সাইবার অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সাইবার ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্বের ১৯৬টি সদস্য দেশের মধ্যে হুমকি সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করা হয়। একইসঙ্গে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সাইবার হুমকি বিশ্লেষণ ইউনিট এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ কমান্ড সেন্টার কাজ করছে।

ইন্টারপোল ইতোমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অভিযানে সাফল্য পেয়েছে। ‘অপারেশন সিকিউর’-এ ২৬টি দেশ যৌথভাবে ২০ হাজারের বেশি ক্ষতিকর আইপি ও ডোমেইন বন্ধ করেছে। অন্যদিকে ‘অপারেশন সেরেঙ্গেটি ২.০’-এ এক হাজারের বেশি সাইবার অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক প্রযুক্তির উন্নতি ভবিষ্যতে আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এমনকি এমন এআই তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই অপরাধীদের চেয়ে এগিয়ে থাকতে গবেষকরা ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি, অগমেন্টেড রিয়্যালিটি এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছেন।

সব মিলিয়ে এআই এখন যেমন মানবজীবন সহজ করছে, তেমনি এর অপব্যবহার বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অদৃশ্য সাইবার যুদ্ধ সাধারণ মানুষের চোখে কম ধরা পড়লেও, ভবিষ্যতের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সাত ধরনের খাবার খেলে ৭০ বছরেও তারুণ্য ধরে রাখতে পারবেন

1

পাঁচ ম্যাচে জয়হীন কলকাতা

2

তরমুজের খোসা-বীজেও মিলবে উপকার

3

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে বিএনপির মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

4

ডাকসু নির্বাচনে মোট মনোনয়ন ফরম বিক্রি ৬৫৮টি

5

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে জানলেন তিনি ‘মৃত’

6

ইরানের যুদ্ধ ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

7

দল বাঁচাতে আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের

8

৫ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস

9

বিএনপিতে কি ফিরবেন রুমিন ফারহানা?

10

বজ্রবৃষ্টি নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

11

মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন প্রধানমন্ত্রী

12

যে কারণে ভেঙে যেতে পারে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধবিরতি

13

টাঙ্গাইলে কৃষক সমাবেশে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

14

রক্তচাপ বৃদ্ধিতে কফির ভূমিকা কতটা?

15

এআইকে ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা

16

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল

17

যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত: আইএমএফ সতর্কবার্

18

পরকীয়া নিয়ে খোঁচা দেওয়ায় স্ত্রীর কান ছিঁড়ে নিলেন স্বামী!

19

আবারও পোশাক নিয়ে প্রশ্নের মুখে জেলেনস্কি, প্রতিক্রিয়ায় যা বল

20