চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ বছর এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। আগামী এক মাসের মধ্যে তাঁদের শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখ করতে হবে) সচিবালয়ের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। অনুষ্ঠানে পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
মাহদী আমিন বলেন, সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরের বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি চাইলে সব বিষয়েও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
এই সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সরকার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এক বা দুই বিষয়ে যারা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।’
তিনি জানান, এ পরিকল্পনার আওতায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদনপ্রক্রিয়া, ফি ও অন্যান্য নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
এর আগে শনিবার বেলা ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁদের শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি সহজ করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে সরকার।
মন্তব্য করুন