গাজীপুর জেলা পরিষদের বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. নজরুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে প্রায় ৬২ কোটি টাকার এফডিআর ভেঙে পে-অর্ডার আকারে নিজের জিম্মায় রেখেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনিক মহলে তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল তিনি একযোগে ১৪টি ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে বিভিন্ন মেয়াদি আমানত (এফডিআর) ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো সেই নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ ছাড় করে জেলা পরিষদের অনুকূলে পে-অর্ডার ইস্যু করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই।
নিয়ম অনুযায়ী, জেলা পরিষদের এফডিআর ভাঙতে হলে স্থানীয় সরকার বিভাগের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা বিদ্যমান অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করেই সিইও এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এদিকে, সিইও নজরুল ইসলাম অনিয়মের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে দাবি করেছেন, কম সুদ ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে অর্থ সরিয়ে “গ্রিন জোন” বা নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় স্থানান্তরের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসকের জ্ঞাতসারেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবেই জমা দেওয়া হবে।
তবে জেলা পরিষদের প্রশাসক এই দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে একক সিদ্ধান্তে সরকারি তহবিলের অর্থ স্থানান্তর বা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণ বেআইনি। এতে যেমন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তেমনি পে-অর্ডার হারানো বা অপব্যবহারের ঝুঁকিও থাকে।
পুরো ঘটনায় প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণের প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মন্তব্য করুন