চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। তবে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রের সংখ্যা বেশি। এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। সার্বিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।
ফলাফল অনুযায়ী, ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী।
শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। তাঁদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ।
অন্যদিকে উত্তীর্ণ ছাত্রের সংখ্যা ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অর্থাৎ, পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা—দুই ক্ষেত্রেই ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা।
পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্রদের সংখ্যা বেশি। এ বছর মোট ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ফল অর্জন করেছেন।
এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ১৯ হাজার ৭২১ জন। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীদের তুলনায় ৬৪২ জন বেশি।
গত বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন।
সে হিসাবে চলতি বছর পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন।
শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল।
তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
মন্তব্য করুন