ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে বলে হালনাগাদ জরিপে আভাস পাওয়া গেছে। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে দুই জোটই ৫১টি করে আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটদানের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। সামগ্রিক ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশে, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিক। অতীতে তাদের মধ্যে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম থাকলেও এবারের নির্বাচনে ব্যাপক অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
রা’আম দলের নেতা মানসুর আব্বাস বলেছেন, চূড়ান্ত ফলাফলে তাঁর দলসহ নেতানিয়াহুবিরোধী শিবির ৬১টি আসন পেলে সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, কোনো পক্ষই এককভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের অবস্থানে নেই।
সাবেক ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত আলোন পিঙ্কাসের মতে, নির্বাচনি প্রচারে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় বিরোধী শিবিরের জন্য সরকার গঠন কঠিন হতে পারে। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে এসব দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু ও তাঁর ডানপন্থী জোটের নেতারা আরব নাগরিকদের ভোটদানের হার বৃদ্ধি নিয়ে প্রচার চালান। আরব রাজনীতিকেরা এ ধরনের প্রচারকে বর্ণবাদী ও উসকানিমূলক বলে সমালোচনা করেছেন।
নির্বাচনে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সম্ভাব্য আসনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ব্যাপক ভোটদান সরকার গঠনের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রাথমিক জরিপে দুই প্রধান জোটের আসনসংখ্যা সমান দেখানো হলেও চূড়ান্ত ফলাফলে এই হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম দলের আসনসংখ্যাও সরকার গঠনের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য কোন পক্ষ আরব দলগুলোর সমর্থন পাবে, কিংবা নতুন কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা তৈরি হবে কি না—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
মন্তব্য করুন