অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ভালোবাসার নামে সব কিছু মেনে নেওয়া কি ঠিক?

ছবি: সংগৃহীত

ভালোবাসা মানেই কি প্রিয় মানুষটির সব ভুল মেনে নেওয়া? নাকি সত্যিকারের ভালোবাসার মধ্যে তার ভুল বুঝিয়ে দেওয়া এবং ভালো থাকার পথে পাশে থাকার দায়িত্বও রয়েছে? সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই আসে। হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।


ব্রিটিশ লেখক ও চিন্তাবিদ সি এস লুইসের ভালোবাসা নিয়ে একটি ভাবনা আজও এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সাহায্য করে। ১৯৪০ সালে প্রকাশিত তার দ্য প্রবলেম অফ পেইন-এ তিনি ভালোবাসার এমন একটি ধারণার কথা বলেন, যেখানে ক্ষমা ও গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি প্রিয় মানুষের ভালো চাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

ভালোবাসা শুধু মেনে নেওয়া নয়

অনেকের কাছে ভালোবাসার অর্থ হলো—প্রিয় মানুষটি যেমন, তাকে তেমনভাবেই গ্রহণ করা। তার ভুল, দুর্বলতা কিংবা সীমাবদ্ধতা নিয়েও পাশে থাকা।


সি এস লুইসের ভাবনায় বিষয়টি আরও গভীর। তার মতে, কাউকে ভালোবাসা মানে তার দুর্বলতাগুলো দেখে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া নয়। আবার ভালোবাসার নামে সব ধরনের আচরণকে সমর্থন করাও নয়।

বরং ভালোবাসার মধ্যে এমন একটি ইচ্ছা থাকে, যেখানে প্রিয় মানুষটি আরও ভালো থাকুক, ভালো সিদ্ধান্ত নিক এবং নিজের ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসুক—এটিও কামনা করা হয়।

মানুষ আর তার ভুল এক নয়

সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো মানুষ ও তার আচরণকে আলাদা করে দেখা।

কেউ ভুল করলেই সে খারাপ মানুষ হয়ে যায় না। আবার কাউকে ভালোবাসি বলেই তার প্রতিটি কাজ সঠিক—এমনটিও নয়।

প্রিয় মানুষের কোনো আচরণ ক্ষতিকর হলে তাকে অপমান না করে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাও জরুরি।


এভাবে মানুষটিকে প্রত্যাখ্যান না করেও তার কোনো ভুল বা ক্ষতিকর আচরণের বিরোধিতা করা সম্ভব।

ক্ষমা করা মানে ভুলকে স্বাভাবিক ভাবা নয়

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ক্ষমার গুরুত্ব অনেক। মানুষের ভুল হতেই পারে। কোনো ভুলের কারণে সম্পর্ক শেষ না করে পরিস্থিতি বুঝে ক্ষমা করার সুযোগ দেওয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

তবে ক্ষমা করার অর্থ এই নয় যে একই ভুল বারবার হলেও তা মেনে নিতে হবে।

বিশেষ করে কোনো আচরণ যদি অন্যের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা বা সুস্থ সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাহলে সেখানে সীমারেখা তৈরি করা প্রয়োজন।

ভালোবাসায় সৎ কথারও জায়গা আছে

অনেক সময় প্রিয় মানুষকে কষ্ট দেওয়ার ভয় থেকে আমরা প্রয়োজনীয় কথাটিও বলতে চাই না। কিন্তু সব সময় চুপ থাকাই ভালোবাসার প্রমাণ নয়।

কখনো কখনো কাছের মানুষটির ভুল ধরিয়ে দেওয়া, তাকে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দেওয়া কিংবা কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোও ভালোবাসার প্রকাশ হতে পারে।

তবে সেই কথাটি বলার ধরন গুরুত্বপূর্ণ। অপমান, দোষারোপ বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা নয়; বরং সহানুভূতি ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলাই বেশি কার্যকর।

অন্ধ সমর্থন আর ভালোবাসা এক নয়

কেউ ভুল করলেও তার পাশে থাকা আর তার ভুলকে সমর্থন করা—দুটি আলাদা বিষয়।

ধরা যাক, কোনো বন্ধু এমন একটি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে। তাকে শুধু খুশি করার জন্য সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন না করে নিজের উদ্বেগের কথা বলা যেতে পারে।

একইভাবে পরিবারের কেউ বা কাছের কোনো মানুষ কোনো ক্ষতিকর অভ্যাসে জড়িয়ে পড়লে তাকে ছোট না করে প্রয়োজনীয় সাহায্য নেওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে।

সম্পর্কেও দরকার সুস্থ সীমারেখা

ভালোবাসার সঙ্গে ব্যক্তিগত সীমারেখারও সম্পর্ক রয়েছে। কাউকে ভালোবাসা মানে নিজের সবকিছু বিসর্জন দেওয়া নয়।

একটি সুস্থ সম্পর্কে দুজনের অনুভূতি, মতামত ও ব্যক্তিগত সীমারেখাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মতের অমিল থাকতেই পারে। কিন্তু সেই অমিল যেন অসম্মান বা ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

কাউকে পরিবর্তন করার দায়িত্ব নিজের হাতে নেওয়ার চেয়ে তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিয়ে প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা বেশি স্বাস্থ্যকর।

ভালোবাসার সঙ্গে দায়িত্বও আছে

সি এস লুইসের ভাবনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ভালোবাসা শুধু আবেগের বিষয় নয়। এর সঙ্গে অন্য মানুষের ভালো চাওয়ার বিষয়টিও জড়িত।

কাউকে সত্যিই ভালোবাসলে তার আনন্দ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার কষ্ট ও দুর্বলতাগুলোও গুরুত্ব পায়। তাই কখনো ভালোবাসা মানে ক্ষমা করা, কখনো ধৈর্য ধরা, আবার কখনো প্রয়োজনীয় সত্য কথাটি বলা।

শেষ পর্যন্ত সত্যিকারের ভালোবাসা হয়তো এমনই—প্রিয় মানুষটির অসম্পূর্ণতাকে বুঝে পাশে থাকা, কিন্তু তার ক্ষতিকর দিকগুলোকে ভালোবাসার নামে স্বাভাবিক করে না তোলা।

অর্থাৎ, ভালোবাসা শুধু ‘তুমি যেমন আছো, তেমনই থাকো’ বলা নয়। কখনো এর অর্থ হতে পারে—‘তুমি ভালো থাকো, আরও ভালো হও, আমি তোমার পাশে আছি।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইসরায়েলের ৩৯ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর

1

তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সংকট চরমে

2

হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য ডিজিটাল আইডি চালু করছে চীন

3

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার ৯ দেশ

4

ট্রাম্পের মাথার জন্য ১২৩ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা

5

আর্জেন্টিনাবিরোধী বক্তব্য দিলেই প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ভিসা হবে

6

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে আর্জেন্টিনা দলে ছিল অন্য আবেগ

7

ম্যাচের আগে তীব্র গরম নিয়ে স্বস্তির খবর আর্জেন্টিনা শিবিরে

8

ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে গোলের শীর্ষে জার্মানি

9

ইরান যুদ্ধে ২৮০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের

10

যার অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ সই করলেন স্কালো

11

খেলা দেখে ফেরার পথে মারধর, প্রাণ গেল যুবকের

12

তেলাপোকা মেরে ফেলায় ‘একাকিত্বে’ ভুগছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

13

ইরানের বিপুল ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

14

তুমি চাইলে আমার গোল্ডেন বলটা নিতে পারো: মেসি

15

বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়: অর্থমন্ত্রী

16

যুবদল নেতা ও মুদিদোকানিকে গুলি, ক্লিনিকে ভাঙচুর

17

সাভারের জুতার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

18

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তায় মরিয়া সরকার

19

প্রথম বহরে বিনা খরচে মালয়েশিয়া যাবেন ১০ হাজার কর্মী

20