ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ এএম
অনলাইন সংস্করণ

অন্তর্বর্তীর অদক্ষতায় ফোকলা অর্থনীতি

ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত হলেও, দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর দায়িত্বকাল নিয়ে এখন নানা বিতর্ক সামনে আসছে। সমালোচকদের দাবি, তাঁর নেতৃত্বে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বদলে বরং আরও চাপের মুখে পড়ে।

বিভিন্ন মহলের অভিযোগ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি, রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, বিনিয়োগ স্থবিরতা ও বেকারত্ব—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কার্যকর সমাধান আসেনি। বরং শিল্প-কারখানা বন্ধ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা এবং ব্যবসায় আস্থাহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং বৈদেশিক ঋণও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ কমেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। একই সময়ে ডলার সংকট ও জ্বালানি সমস্যার কারণে উৎপাদন খাতেও চাপ তৈরি হয়।

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের সঙ্গে পর্যাপ্ত সংলাপ হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয় এবং নতুন উদ্যোগ নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়। শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগও ব্যবসার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এখন বড় অঙ্কের ঋণ ও সীমিত আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে অর্থনীতি সামাল দিতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে আলোচনায় উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর সাবেক চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল এবং নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব দেখা গেছে।

বিতর্কিত কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলি দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়ে আলোচনা চলছে। একইভাবে বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি অংশগ্রহণের বিষয়টিও জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সমালোচিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচক ছিল—তা নিয়ে এখনো চলছে বিস্তৃত বিতর্ক। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে কার্যকর নীতি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং আস্থার পুনর্গঠন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বাবার টাকা চুরি করে প্রেমিকার সঙ্গে রিসোর্টে অবস্থান, আইফোন

1

জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

2

আমার মেয়ে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেবেন

3

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে

4

ভারত মহাসাগরই ভবিষ্যৎ যুদ্ধের কেন্দ্র

5

মাদক পাচার ঠেকানোর দায়িত্বে থেকেও হেরোইনসহ গ্রেপ্তার পুলিশ ক

6

দুই বছর পর শান্তর সেঞ্চুরি

7

কাঁচা কাঁঠালের স্বাস্থ্যকর বার্গার

8

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিততে পারে স্পেন

9

কাতার ও ইসরায়েলকে ৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

10

বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নেওয়া দলগুলো

11

হরমুজ প্রণালীতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত

12

নতুন এআই মডেলে সমস্যা, গ্রাহকদের কোটা ফেরাচ্ছে মুনশট

13

বাগেরহাটে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে একমাত্র নারী চিকিৎসককে হেন

14

ফ্যামিলি কার্ডের কারণে বাজেটে কোনো চাপ পড়বে না

15

ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলায় হারলেন ইলন মাস্ক

16

বৃষ্টির পরও তেহরানে ভয়াবহ পানি সংকটের আশঙ্কা

17

ইশরাক হোসেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের পর পদত্যাগ

18

পরিবেশমন্ত্রীর আশ্বাসে ৩৬ ঘণ্টা পর অনশন ভাঙলেন জুলাই যোদ্ধা

19

মেসিকে বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার ঘোষণা

20