জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডো-তে সোমবার ভোরে ৬.২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেএমএর তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ২৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৮৩ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৬.১ ধরা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৬.২ নির্ধারণ করা হয়।
এ ঘটনায় কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল তুলনামূলক কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম।
তবে জেএমএর কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যেসব এলাকায় তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে সেখানে ভূমিধস ও পাথর গড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একই মাত্রার আরও ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে হোক্কাইডোর দক্ষিণে সমুদ্র এলাকায় ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এরও আগে, গত সপ্তাহে ইওয়াতে প্রিফেকচার উপকূলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার প্রভাবে দূরের টোকিও শহরেও ভবন কেঁপে ওঠে।
সেই ভূমিকম্পের পর একটি বন্দরে প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামি আঘাত হানে এবং কয়েকজন আহত হন। এরপর থেকেই বড় মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি বলে সতর্ক করে আসছে জেএমএ।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপান প্রশান্ত মহাসাগরের রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত। চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় হাজার ভূমিকম্প ঘটে, যা বৈশ্বিক মোট ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।
২০১১ সালের ভয়াবহ তোহোকু ভূমিকম্প ও সুনামি এখনো দেশটির মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। ওই দুর্যোগে প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নিহত বা নিখোঁজ হন এবং ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এ বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটে।
সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পগুলো জাপানের সিসমিক ঝুঁকি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য করুন