সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যে সড়কের পাশ থেকে একটি নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রামপাশা ইউনিয়নের রামপাশা-লামাকাজি সড়কের ধলিপাড়া পিচের মুখ এলাকায় গত রবিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে বিশ্বনাথ থানা পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে, যেখানে বর্তমানে সে সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিএনজি চালক মুক্তার মিয়া লামাকাজি থেকে ফেরার পথে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হঠাৎ তার গাড়ি বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় অন্ধকারের মধ্যে তিনি নবজাতকের কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে গাড়ি থেকে নেমে খোঁজ নিয়ে তিনি সড়কের পাশে একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে কোনো কাপড় ছিল না, শুধু একটি পাতলা কাঁথা দিয়ে তাকে মোড়ানো হয়েছিল। খোলা জায়গায় পড়ে থাকার কারণে শিশুটি ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা সম্ভব হয় এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
বিশ্বনাথ থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী মাহবুবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তিনি বলেন, শিশুটি এখন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে আছে এবং নিরাপদ রয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শিশুটিকে সিলেটের ‘ছোটমণি নিবাসে’ পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কে বা কারা রাতের আঁধারে নবজাতকটিকে ফেলে গেছে তা এখনো জানা যায়নি। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তবে সিএনজি চালক মুক্তার মিয়ার মানবিকতা ও দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই একটি নিষ্পাপ প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, যা মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন