মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর প্রধান কাশ প্যাটেল-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ছাত্রজীবনে তিনি একাধিকবার আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্যাটেল অন্তত দুইবার গ্রেফতার হন—একবার জনসমক্ষে মদ্যপান এবং অশালীন আচরণের অভিযোগে, আরেকবার অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মদ্যপানের কারণে। ২০০৫ সালে একটি চাকরির আবেদনপত্রে জমা দেওয়া ব্যক্তিগত চিঠিতে তিনি নিজেই এসব ঘটনার কথা স্বীকার করেছিলেন।
জানা যায়, নিউইয়র্কে আইন বিষয়ে পড়াশোনার সময় বন্ধুদের সঙ্গে মদ্যপান শেষে ফেরার পথে তিনি ও তার সঙ্গীরা জনসমক্ষে অসংযত আচরণ করলে পুলিশ তাদের আটক করে। এর আগে ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে একটি ক্রীড়া ইভেন্টে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাস ও মদ্যপানের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
যদিও প্যাটেল দাবি করেছিলেন তিনি সীমিত পরিমাণে পান করেছিলেন, তবুও আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করে। পরবর্তীতে তিনি নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানান, এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা তার প্রকৃত চরিত্রকে প্রতিফলিত করে না।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক-এর এক প্রতিবেদনে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আরও কিছু বিতর্কিত তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে তার অতিরিক্ত মদ্যপান এবং দায়িত্ব পালনের সময় অনিয়মিত আচরণের অভিযোগ তোলা হয়, যা সহকর্মীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
এমনকি কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একবার তাকে খুঁজে না পেয়ে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বাহিনীর সহায়তার কথাও ভাবা হয়েছিল।
তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্যাটেলের মুখপাত্র। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এফবিআই প্রধান হিসেবে নিয়োগের আগে প্যাটেলের অতীত বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হয়েছিল এবং তাকে যোগ্য বলেই বিবেচনা করা হয়।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে প্যাটেল বলেছেন, দায়িত্ব পালনকালে তিনি কখনো মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন না। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে তিনি ২৫০ মিলিয়ন ডলারের মানহানির মামলা দায়ের করেছেন এবং বিষয়টি আদালতে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, অতীতের ঘটনাগুলো নতুন করে সামনে আসায় ওয়াশিংটন-এর রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মন্তব্য করুন