মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের কৌশলগত চাবাহার বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক জটিলতায় পড়েছে ভারত। এই প্রকল্প ঘিরে এখন একদিকে ভারত, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—তিন পক্ষের মধ্যে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। গত ২৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি নতুন মোড় নিয়েছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, চাবাহার বন্দর ইস্যুতে ভারত এখন একইসাথে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তবে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আলোচনার গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
চাবাহার বন্দরে ভারতের আগ্রহ নতুন নয়। ২০১৬ সালের মে মাসে ভারত ও ইরানের মধ্যে এই বন্দর উন্নয়ন নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর আগেই, ২০১২ সাল থেকে প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। যদিও ২০১৮ সালে ভারত বিশেষ ছাড় পায়, যা তাকে উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
এই বন্দরের কৌশলগত গুরুত্ব ভারতের জন্য অনেক বেশি। কারণ, চাবাহার হয়ে ভারত সরাসরি আফগানিস্তান, মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়ার সাথে বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপন করতে পারে—যা পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরি করে।
তবে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র সেই বিশেষ ছাড় বাতিল করে দেয় এবং পরে সীমিত সময়ের জন্য পুনর্বহাল করলেও এখন সেটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ফলে নতুন করে আইনি ও কূটনৈতিক জটিলতার মুখে পড়েছে পুরো প্রকল্পটি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে চাবাহার বন্দর শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়, বরং এটি পরিণত হয়েছে বৈশ্বিক শক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে।
মন্তব্য করুন