অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
অনলাইন সংস্করণ

টেলিফোনেই চলছে শান্তি আলোচনা: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত


 মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা এখন টেলিফোনের মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, একটি অসম্পূর্ণ চুক্তির জন্য ইসলামাবাদ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। 

তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার প্রস্তাবগুলো এখনো ওয়াশিংটনের কাছে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠেনি এবং কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো সম্ভব হয়নি। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার এই ফোনালাপ এখন একটি সম্ভাব্য কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এগিয়ে চলছে।

বর্তমানে চলমান এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করা, গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। যদিও ইরান এসব বিষয়ে দ্রুত সমাধান চাইছে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক ইস্যুটিকে আলোচনার পরবর্তী ধাপের জন্য জমা রেখেছে। 

ট্রাম্প আবারও তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘ইরানের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়’ এবং এটিই তার প্রশাসনের জন্য আলোচনার প্রধান অগ্রাধিকার। মূলত তেহরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন থেকে দূরে রাখাই মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের মূল লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের এই টেলিফোনিক কূটনীতি মূলত সময়ক্ষেপণ নাকি প্রকৃত সমাধানের পথ, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। একদিকে তিনি আলোচনার দরজা খোলা রাখছেন, অন্যদিকে নৌ-অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ বজায় রেখেছেন।

ট্রাম্পের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান একটি সম্মানজনক এবং লাভজনক চুক্তিতে সম্মত না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন। অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের এসব শর্ত নিয়ে গভীর বিচার-বিশ্লেষণ চলছে।

১ মে’র সময়সীমার আগে দুই দেশের এই পরোক্ষ ও সরাসরি যোগাযোগ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদে মুখোমুখি বৈঠকটি বাতিল হয়েছে, তবে টেলিফোনে আলোচনার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে কোনো পক্ষই এখনো যুদ্ধের দিকে চূড়ান্তভাবে পা বাড়াতে চাইছে না। 

এখন দেখার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই ‘চৌকস চুক্তির’ স্বপ্ন এবং ইরানের অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি কীভাবে একটি বিন্দুতে মিলিত হয়। বিশ্ববাজার ও তেলের দামের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে এই টেলিফোনিক আলোচনার ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মরিয়ম নওয়াজের মেয়ের বিয়ে, যে বন্ধুত্বে জুড়েছিল দুই পরিবার

1

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বন কেটে ভাগাড় নির্মাণ

2

জ্বালানি আধিপত্যের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রকে তোপে রাশিয়া

3

কথা কম বলে জবাবটা মাঠেই দিতে ভালোবাসি:রোমেরো

4

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়

5

সারা দেশে দুই দিন বন্ধ থাকবে এলপিজি বিক্রি

6

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি ঘিরে নতুন মার্কিন নিষেধ

7

নেপাল বিপর্যয়ে দায় এড়াল চীন, কাঠমাণ্ডু-বেইজিং সম্পর্কে ফাটল

8

ইরানের চিঠি জাতিসংঘে: ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

9

মেয়র নির্বাচনে প্রস্তুত ইশরাক হোসেন

10

ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ইনফান্তিনো ভুল ব্যক্তি: ব্রিটিশ প

11

ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিয়েও চীনে বড় সাফল্য পেলেন না ট্রাম্

12

বিশ্বকাপের প্রাইজমানি: স্পেন পেল ৬১৫ কোটি, আর্জেন্টিনা ৪০৬ ক

13

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল নির্বাচন—সেনাপ্রধানের মন্তব্য

14

যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যা, ১১ বছর পর স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

15

মে মাসের মধ্যেই হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশাবা

16

হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

17

কক্সবাজারের এক লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ তিন নারী গ্রেফতার

18

হাসপাতালে অসুস্থ বাবা, জমির দলিলে সই নেওয়ার চেষ্টা মেয়ের

19

অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডকেও কাঁপালেন আরাফাত, কে পাকিস্তানের

20