ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

শিশুর শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব

ছবি: সংগৃহীত

একটি শিশুর হাসি, দৌড়ঝাঁপ আর অশেষ প্রাণচাঞ্চল্যই তার সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশের প্রতিচ্ছবি। শৈশবের এই স্বতঃস্ফূর্ত আনন্দই বলে দেয় সে কতটা স্বাস্থ্যবানভাবে বেড়ে উঠছে। কিন্তু আধুনিক নগরজীবনে চিত্রটি অনেকটাই বদলে গেছে। এখন অনেক শিশু চার দেয়ালের ভেতর সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যেখানে খেলার মাঠের বদলে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও টেলিভিশন তাদের প্রধান সঙ্গী।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে শিশুর শারীরিক বিকাশে। শৈশব এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যখন হাড়, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্র দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময়ে পর্যাপ্ত শারীরিক নড়াচড়া ও খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে উঠলে শরীর স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী ও সহনশীল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, খেলাধুলার অভাব ভবিষ্যতে দুর্বল হাড়, পেশির অস্বাভাবিকতা এবং নানা শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবারই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা। তবে এর জন্য জিম বা কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। শিশুদের জন্য খেলাধুলাই সবচেয়ে সহজ ও আনন্দদায়ক ব্যায়াম। মাঠে দৌড়ঝাঁপ, লাফালাফি ও বিভিন্ন খেলা তাদের শরীরকে স্বাভাবিকভাবে শক্তিশালী করে তোলে।

দৌড়ঝাঁপের খেলাগুলো যেমন লুকোচুরি, ধরাধরি বা কানামাছি শিশুর পুরো শরীরকে সক্রিয় করে। এতে পায়ের পেশি শক্ত হয়, হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের ভারসাম্য উন্নত হয়। এসব সাধারণ খেলাই শিশুর শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লাফানোর খেলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দড়িলাফ বা এক পায়ে লাফানোর মতো ব্যায়াম হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। এতে শরীরে প্রাকৃতিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা হাড়কে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তোলে এবং ক্যালসিয়াম শোষণ প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।

বল খেলা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ফুটবল, ক্রিকেট বা বাস্কেটবলে দৌড়ানো, লাথি মারা বা বল ছোড়ার মাধ্যমে শরীরের বড় পেশিগুলো সক্রিয় হয়। একই সঙ্গে চোখ ও হাতের সমন্বয় দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং শিশুর মধ্যে দলগত মনোভাব ও সামাজিক দক্ষতা তৈরি হয়।

গাছে ওঠা, মাংকি বারে ঝুলে থাকা বা স্লাইডে ওঠানামার মতো খেলা শিশুর শরীরের ওপরের অংশের পেশি শক্তিশালী করে। এতে হাত, কাঁধ ও পিঠের বিকাশ ভালো হয় এবং মেরুদণ্ড সোজা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শিশুর আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পায়।

সাঁতার ও সাইকেল চালানোও শিশুর শারীরিক বিকাশে অত্যন্ত কার্যকর। সাঁতার শরীরের প্রায় সব পেশিকে একসঙ্গে কাজ করায়, যা সহনশীলতা ও শ্বাস-প্রশ্বাস ক্ষমতা বাড়ায়। অন্যদিকে সাইকেল চালানো পায়ের পেশিকে শক্তিশালী ও জয়েন্টকে নমনীয় করে তোলে।

খেলাধুলার পাশাপাশি সঠিক পুষ্টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। হাড় মজবুত করার জন্য দুধ, দই ও পনিরের মতো ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার দরকার। ভিটামিন ডি পাওয়া যায় সূর্যালোক ও ডিম থেকে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সহায়তা করে। পাশাপাশি মাছ, মাংস, ডাল ও বাদাম পেশি গঠনে সাহায্য করে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তাই অভিভাবকদেরও সক্রিয় জীবনধারা অনুসরণ করা জরুরি। প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা শিশুকে স্ক্রিন থেকে দূরে রেখে খোলা মাঠে খেলতে উৎসাহিত করা উচিত। এতে শুধু শরীর নয়, মানসিক বিকাশও ভালো হয়।

সবশেষে বলা যায়, খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়; এটি শিশুর সুস্থ ভবিষ্যতের ভিত্তি। আজকের এই ছোট ছোট দৌড়ঝাঁপ ও খেলাই গড়ে তোলে আগামী দিনের একজন শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী ও সুস্থ মানুষ।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হিউ জ্যাকম্যানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া গল্প

1

সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ না হলে সুসম্পর্ক সম্ভব নয় ; রিজভী

2

এনসিপিতে যোগ দিলেন নিজামীর ছেলে ড. নাদিমুর রহমান

3

পারমাণবিক সক্ষম ‘সারমাত’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সফল রাশিয়া

4

ইরানে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে নেতানিয়াহু-সেনাপ্রধানের বিরোধ

5

ইসি নিয়োগ বিল সমর্থন করে ‘বড় ভুল’, অনুতপ্ত জগনমোহন

6

আজ ৩,০০০ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা

7

কনকচাঁপার ঘটনায় বিএনপির দুঃখপ্রকাশ

8

আত্মা দিয়ে জার্সিটা রক্ষা করেছি', অবসরের ঘোষণা আর্জেন্টিনা খ

9

রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা : গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের ভাই ও বাব

10

মৃত্যুর ৩০ বছর পরও জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি সালমান শাহর

11

চাঁপাইনবাবগঞ্জে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

12

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

13

স্পেনের সঙ্গে মেসির ‘বিদায়ী ম্যাচ’ খেলার প্রস্তাব

14

ইসরায়েলকে ভালোবাসি, নেতানিয়াহুকে নয়: হিলারি

15

এক গাড়িতে ট্রাম্প ও পুতিন, বিরল দৃশ্য

16

ঘোড়াশালে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ডাকাতি

17

শৈশবের ক্লাব সান্তোসে নেইমারের সম্মানে ভাস্কর্য উন্মোচন

18

আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব নিয়ে বিতর্ক, নিষেধাজ্ঞার অভিযোগে বি

19

আর্জেন্টিনোফোবিয়া: দলটিকে শান্তিতে জিততেও দেয়া হয় না, হার

20