আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ বিশেষ দূতের মন্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দেয়।
শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসলামাবাদ জানায়, গত মার্চ মাসে তারা শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিলেও সীমান্তের ওপার থেকে হামলা ও সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়নি। বরং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ব্রিটিশ বিশেষ দূত Richard Lindsay সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্ত সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও পাকিস্তানের মতে, তিনি ঘটনাটির গভীরতা ও প্রেক্ষাপট যথাযথভাবে অনুধাবন করতে পারেননি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Tahir Andrabi বলেন, সন্ত্রাসবাদের মূল কারণ উপেক্ষা করে দেওয়া মন্তব্য কখনোই বস্তুনিষ্ঠ বা ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আফগান তালেবান এবং তাদের সহযোগীরা সীমান্তে একাধিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ৫২ জন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ৮৪ জন আহত হয়েছেন। সর্বশেষ ঘটনায় খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্তে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ১৩ জন সশস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা করে।
পাকিস্তানের দাবি, তারা কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি লক্ষ্য করেই সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছে। বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আফগান পক্ষের অভিযোগকে তারা ভিত্তিহীন বলেও দাবি করেছে।
একইসঙ্গে ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগান তালেবান বারবার পাকিস্তানের বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলকে প্রকৃত অবস্থা বোঝার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
পাকিস্তান বলছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘদিনের লড়াই এবং ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া উচিত।
মন্তব্য করুন