ভারতের মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন সংযোজন ‘দৃষ্টি’ নামের একটি অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট, যা সম্প্রতি সফলভাবে মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু-ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্যালাক্সআই এই উপগ্রহটি তৈরি করেছে, যা প্রযুক্তিগতভাবে দেশটির জন্য একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে এটি কক্ষপথে পাঠানো হয়। এই মিশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—স্যাটেলাইটটিতে একসঙ্গে মাল্টিস্পেকট্রাল ক্যামেরা এবং সিনথেটিক অ্যাপারচার রাডার (SAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা একই প্ল্যাটফর্মে এর আগে খুব কমই দেখা গেছে।
সাধারণ স্যাটেলাইট ক্যামেরা মেঘ বা অন্ধকারে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে না। কিন্তু SAR প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘দৃষ্টি’ যেকোনো আবহাওয়া ও আলো পরিস্থিতিতেই নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রায় ১৯০ কেজি ওজনের এই উপগ্রহটি বর্তমানে ১.৫ মিটার রেজোলিউশনে ছবি তুলতে পারে। অর্থাৎ মহাকাশ থেকে মাটির ওপর ছোট আকারের বস্তুও স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব। ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও উন্নত করে ০.৩ মিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নজরদারিকে আরও সূক্ষ্ম পর্যায়ে পৌঁছে দেবে।
এই প্রযুক্তির ফলে ভারতকে আর বিদেশি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময়ে নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থার গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়।
গ্যালাক্সআই-এর প্রধান নির্বাহী জানান, পৃথিবীর বড় অংশই প্রায় সারাবছর মেঘে ঢাকা থাকে, যার কারণে প্রচলিত স্যাটেলাইট ইমেজিং অনেক সময় কার্যকর হয় না। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই ‘দৃষ্টি’ তৈরি করা হয়েছে।
তবে এই সাফল্যের পাশাপাশি ভারতের মহাকাশ ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতাও সামনে এসেছে। বিশেষ করে তাদের নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম নেভআইসি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত সমস্যার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্যাটেলাইটের অ্যাটমিক ক্লক বিকল হয়ে যাওয়ায় সঠিক পজিশনিং ডেটা প্রদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নতুন নজরদারি সক্ষমতা অর্জন হলেও, অন্যদিকে পুরোনো অবকাঠামোর দুর্বলতা ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
ভবিষ্যতে ‘দৃষ্টি’ প্রকল্পের অধীনে আরও একাধিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে একটি শক্তিশালী নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে, যা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে পারে।
মন্তব্য করুন