ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’র নির্দেশের পর ইসরাইলি সেনারা লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১০ জন লেবাননের নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। হামলা সকাল থেকে শুরু হয়ে সারাদিন চলেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে বলা হয়েছিল, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ থামাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র এই শর্ত মেনে চললেও, ইসরাইল জানিয়েছে লেবানন এই চুক্তির আওতায় নেই। এই অবস্থায় ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ শুরু করেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সিডন শহরের একটি ক্যাফেতে ৮ জন নিহত এবং ২৮ জন আহত হয়েছে। এছাড়া, রাস এল-আইন এলাকায় একটি গাড়িতে হামলায় ২ জন নিহত হয়েছে। হামলা চলাকালীন ওয়াদি বারঘাজ এলাকায় বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরাইলি সেনাদের মুখপাত্র আভিচাই আদরাই টাইর শহরের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, সম্ভাব্য হামলার আগে জাহরানি নদীর উত্তরে সরতে হবে।
লেবাননের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট ইউনিট হামলার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের দক্ষিণে ফিরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নিরাপত্তার কারণে এখনো বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আছে।
লেবাননের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ইসরাইলি হামলায় ১,৫০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযানও শুরু করেছে। তাদের লক্ষ্য হলো ‘বাফার জোন’ তৈরি করা এবং আরও এলাকা দখল করা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলা লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অবনতি ঘটাবে এবং স্থানীয় জনগণের মানবিক দুর্ভোগ বাড়াবে।
মন্তব্য করুন