দেশের সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থার নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য Rumeen Farhana বলেছেন, রাষ্ট্রে যখন অবক্ষয় শুরু হয়, তখন কোনো খাতই এর প্রভাব থেকে বাইরে থাকে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত “সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষাখাত: বাজেট ও বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তার মতে, গ্রামাঞ্চলে গেলে দেশের বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, যেখানে নানা ধরনের বৈষম্য ও সুযোগের অভাব বিদ্যমান।
রুমিন ফারহানা বলেন, অনেক সময় অর্থ ও প্রভাব ব্যবহার করেই অনেকে জনপ্রতিনিধি হওয়ার সুযোগ পান, যা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার জন্য ভালো বার্তা নয়। তিনি মনে করেন, জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়বদ্ধ হতে হবে।
তিনি প্রস্তাব দেন যে সংসদ সদস্যদের সন্তানদের অন্তত স্থানীয় বা জেলা পর্যায়ের স্কুলে পড়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। একইভাবে জনপ্রতিনিধিদের নিজ এলাকার চিকিৎসা সেবা গ্রহণের বিষয়টিও বাধ্যতামূলক করা উচিত বলে তিনি মত দেন। তার মতে, এসব নিয়ম চালু হলে শুধু অর্থের জোরে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা হলেও কমবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। কারণ অনেক শিক্ষার্থী এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে মৌলিক দক্ষতায় দুর্বল। তার মতে, উন্নত দেশে সবচেয়ে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসেন, কিন্তু এখানে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতার বদলে দলীয় পরিচয় প্রাধান্য পায়।
তিনি আরও বলেন, আর্থিক চাপের কারণে অনেক শিক্ষক কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মানকে প্রভাবিত করছে। একইসঙ্গে সামাজিক বাস্তবতায় শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পর্ক নিয়েও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এখনো অনেক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। তাই প্রথমে মৌলিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি, এরপর প্রযুক্তি বা অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
সবশেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্রে অবক্ষয় শুরু হলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে সব খাতে ছড়িয়ে পড়ে, এবং শিক্ষা ব্যবস্থা তার বাইরে নয়।
মন্তব্য করুন