মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে, যেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মাটিতে সংঘর্ষ থামছে না। ইসরাইল ও লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন। যদিও এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, তবুও উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের জবাব হিসেবেই তারা হামলা চালাচ্ছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন থেকেই ইসরাইল নিয়ম ভঙ্গ করে আসছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডকে যুদ্ধবিরতির জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাদের লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত থাকবে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। বিশেষ করে কফর তিবনিত এলাকায় হামলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মস্কো সফরে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন-এর সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সময়ে তিনি ওমান সফর শেষে আবার পাকিস্তানে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক একটি গুলির ঘটনা তাকে ইরান সংক্রান্ত অবস্থান থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার লক্ষ্য ইরান ইস্যুতে জয় নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে ইরান-এ নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্য ও গোয়েন্দা তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এসব শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘর্ষ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছু মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দিন দিন আরও অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে।
মন্তব্য করুন