যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের নতুন শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা মোজতবা খামেনি পর্দার আড়াল থেকে দেশটির সামরিক কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থা ও বাস্তব ক্ষমতার পরিধি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির শুরুর দিকে এক হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন এবং সেই ঘটনায় মোজতবা খামেনিও গুরুতর আহত হন। এরপর থেকেই তার ভূমিকা ও নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠতে থাকে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো এখন কিছুটা বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। মোজতবা খামেনি নীতিগত সিদ্ধান্তে যুক্ত থাকলেও দৈনন্দিন প্রশাসনিক ও সামরিক কার্যক্রম মূলত রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ পরিচালনা করছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোকে অকার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, নেতৃত্ব একক কেন্দ্রে না থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি দুর্বল হয়নি। দেশটির বড় অংশের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা এখনো সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
একই সঙ্গে সিআইএ-এর মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান আগামী কয়েক মাস অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে।
তবে হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে নেওয়া নতুন অর্থনৈতিক চাপ ও নৌ-অবরোধ ইরানের অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
মন্তব্য করুন