বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে সময় যত গড়িয়েছে, আর্জেন্টিনা ততই হয়ে উঠেছে আরও ভয়ংকর। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষকে হারানো না গেলেও অতিরিক্ত সময় কিংবা ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়ে একের পর এক বাধা পেরিয়ে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের জয়। আর মিসরের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন– সবমিলিয়ে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই এবার আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে উঠেছে।
এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা। প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ, ক্লান্তি কিংবা সময়ের চাপ কোনো কিছুই যেন তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি। বরং ম্যাচ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে। ততই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে স্কালোনির দল।
সেই কারণেই শেষ মুহূর্তের নাটকীয় জয় এখন আর্জেন্টিনার পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। আর এই ধারাবাহিকতাই তাদের এনে দিয়েছে টানা আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের টিকিট।
নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার প্রথম বড় পরীক্ষা আসে রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। অতিরিক্ত সময়েও উত্তেজনা কমেনি। ৯২তম মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে ১০৩তম মিনিটে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছিল। তখন ১১১তম মিনিটে লিওনেল মেসির কর্নার থেকে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে স্কালোনির দল।
শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়ে আর্জেন্টিনা। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে তারা। কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১১ মিনিটে দুটি গোল করে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে জয়সূচক গোল। ৩-২ ব্যবধানে অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কোয়ার্টার ফাইনালেও একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। সুইজারল্যান্ড নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ সমতা ধরে রেখে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়। কিন্তু অতিরিক্ত সময়েই পার্থক্য গড়ে দেয় আর্জেন্টিনা। ১১২তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের দুর্দান্ত বাঁকানো শটে এগিয়ে যায় তারা।
এরপর অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে লাউতারো মার্তিনেজ আরও একটি গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়। সেই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অতিরিক্ত সময়ের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
বড়গুলোর পার্থক্য এখানেই হারের আগেই হার নয়। মনোবল ধরে রাখো, লড়াই করো, প্রতিপক্ষের ক্লান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করো, এরপর ভুল পেলেই কাজে লাগিয়ে শেষ হাসি হাসো। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গল্পগুলো এমনই। আর এজন্যই তারা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। টানা দ্বিতীয় জায়গা করে নিল সেমিফাইনালে।