প্রকাশ :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম |অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের দাবি অনুযায়ী, দুই পক্ষ একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির দিকে এগোনোর জন্য ৬০ দিনের রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে এবং আলোচনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংলাপে দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টার বৈঠকে উভয় পক্ষই ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নিয়ে একমত হয়। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে জেডি ভ্যান্সসহ জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন। ইরানের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, আলোচনায় “উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি” হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কারিগরি পর্যায়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা চলবে। প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে রাজনৈতিক তদারকি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে আলোচনার মাঝেই পরিস্থিতি নতুন করে জটিলতা তৈরি করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো নিয়ন্ত্রণে না আনলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই মন্তব্য আলোচনার পরিবেশে চাপ তৈরি করে।
অন্যদিকে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি বলে জানিয়েছে। তেহরানের মতে, এখনো মৌলিক ইস্যুতে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
আলোচনায় লেবানন পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও কিছু প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে যেকোনো উত্তেজনা এড়াতে দ্রুত সমন্বয়ের জন্য একটি বিশেষ ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনের প্রস্তাবও এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের জন্য সীমিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ছাড় দিয়ে একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছে, যা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তেল ও জ্বালানি পণ্যের বাণিজ্যকে আংশিকভাবে অনুমোদন দেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনায় অগ্রগতি বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং তেল–গ্যাসের দামে স্থিতিশীলতা এসেছে। তবে চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির পথ এখনও জটিল ও অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, ৬০ দিনের রোডম্যাপকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করলেও বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর।
মন্তব্য করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ
1
জার্মান গণিতবিদকে পরের বিশ্বকাপে চেষ্টা করতে বলে নেইমারের খো
2
প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে কানাডা
3
মেসি কখনোই দলের বিষয়ে নাক গলাননি: স্কালোনি
4
পদত্যাগ করলেন মেসিদের কোচ মাচেরানো
5
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইউক্রেনে রুশ হামলা
6
স্বেচ্ছায় আত্মগোপনে থাকা সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারসহ আটক
7
বিশ্বকাপের গান নিয়ে ফিরছেন আরমান খান
8
স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বগতি
9
পেনশন স্কিমে নতুন দিকনির্দেশনা দিলেন অর্থমন্ত্রী
10
বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করল ভারত
11
আমরা ব্রাজিলিয়ানরাও তোমাদের ভালোবাসি: ব্রাজিল গোলরক্ষক
12
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক রিপন মিয়া
13
দেশমকে আবেগঘন বিদায়বার্তায় যা বললেন এমবাপ্পে
14
রংপুরে শিক্ষক পরিবার হত্যা : গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থের ভাই ও বাব
15
জাপানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকবেন কী নেইমার?
16
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ইরানকে
17
তুমি চিরকালের জন্য এক নম্বর: মেসিকে স্প্যানিশ তারকা গ্যাভি
18
ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ইনফান্তিনো,বহাল থাকছে ফিফা সভাপতি প