বিশ্বকাপ জয় ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে সেটিই একমাত্র শর্ত নয় এমন বার্তাই আবারও সামনে এনেছে ব্যালন ডি’অরের আয়োজক ‘ফ্রান্স ফুটবল’। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে সাময়িকীটি জানিয়েছে, বিশ্বের সেরা ফুটবলারের এই স্বীকৃতি পেতে হলে পুরো মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকভাবে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হয়। সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরতে গিয়ে তারা উদাহরণ হিসেবে সামনে এনেছে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির নাম ও ছবি। টিওয়াইসিস্পোর্টস
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রিকে দেয়া নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতেই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অনেকের মতে, ওই আসরে লিওনেল মেসির পারফরম্যান্স বিবেচনায় পুরস্কারটি রদ্রির হাতে তুলে দেয়া যথার্থ ছিল না। সেই বিতর্কের মধ্যেই ব্যালন ডি’অরের আয়োজক সংস্থা নিজেদের মূল্যায়নের নীতিমালা ব্যাখ্যা করেছে।
ফ্রান্স ফুটবল জানিয়েছে, কোনো খেলোয়াড় ইউরোপের বাইরে খেললেও ব্যালন ডি’অর জয়ের সুযোগ হারান না। একইভাবে কোনো দেশ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে বলেই সেই দলের কোনো ফুটবলারকে ব্যালন ডি’অর দেয়া হবে এমনও নয়। তাদের মতে, পুরস্কার নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট মৌসুমে একজন ফুটবলারের সামগ্রিক পারফরম্যান্স, ধারাবাহিকতা এবং ব্যক্তিগত প্রভাব।
এ বছরের সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর আলোচনায় স্পেনের রদ্রির পাশাপাশি উঠে আসছে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল ও পাও কুবারসির নাম। আবার বিশ্বকাপ শিরোপা না জিতেও দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের মতো ফুটবলারদেরও সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইতিহাসও একই বার্তা দেয়। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের ববি চার্লটন, ১৯৮২ সালে ইতালির পাওলো রোসি এবং ১৯৯০ সালে জার্মানির লোথার ম্যাথাউস বিশ্বকাপ জয়ের বছরই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। পরে জিনেদিন জিদান (১৯৯৮), রোনালদো (২০০২) এবং ফাবিও কানাভারোও (২০০৬) একই কৃতিত্ব দেখান।
তবে এই ধারায় বড় পরিবর্তন আসে ২০১০ সালে। সেবার বিশ্বকাপ জিতেছিল স্পেন, কিন্তু ব্যালন ডি’অর ওঠে লিওনেল মেসির হাতে। বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ মৌসুম কাটিয়ে তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে পুরস্কারটি জয় করেন। এতে স্পষ্ট হয়, বিশ্বকাপ জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র নির্ধারক নয়।
একই ঘটনা দেখা যায় ২০১৪ সালে। ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপা জেতে জার্মানি। কিন্তু ব্যালন ডি’অর জেতেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি জার্মান গোলরক্ষক মানুয়েল নয়্যার এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছিলেন। ২০১৮ সালেও বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্সের অঁতোয়ান গ্রিজম্যানকে ছাড়িয়ে ব্যালন ডি’অর জেতেন ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ, যদিও তার দল ফাইনালে হেরেছিল।
এরপর ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পর আবারও ব্যালন ডি’অর জয় করেন মেসি। ফলে দলীয় ও ব্যক্তিগত দুই ধরনের সর্বোচ্চ সাফল্য একসঙ্গে অর্জনের নজিরও গড়েন তিনি।
ফ্রান্স ফুটবল তাদের নিবন্ধের উপসংহারে বলেছে, বিশ্বকাপ জয় অবশ্যই একজন ফুটবলারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু সেটি কখনোই ব্যালন ডি’অর নিশ্চিত করে না। এই পুরস্কার জিততে হলে পুরো মৌসুমজুড়ে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে হয়, শুধু বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচে নয়।
স্বপ্নভঙ্গের পর মেসি বললেন, এই ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগবে
এবারও সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই বিশ্বের সেরা ফুটবলারের নাম ঘোষণা করা হবে। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে অনুষ্ঠিত হবে ব্যালন ডি’অরের জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। তখনই জানা যাবে, ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে বিশ্বকাপের বাইরে থেকেও কেউ সেরার মুকুট জেতেন, নাকি আবারও দলীয় সাফল্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে বিশ্বের সেরা ফুটবলারের পরিচয়।