অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

এতিমখানা থেকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে স্বপ্নযাত্রা, নতুন আশার নাম ‘কিকি’ রামোস

ছবি: সংগৃহীত




স্টিফেন ‘কিকি’ রামোস। তার জন্ম হয়েছিল হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের একটি এতিমখানায় । জীবনের শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তা আর সংগ্রামে ঘেরা। কিন্তু ভাগ্যের মোড় ঘুরে যায়, যখন আর্জেন্টিনার একটি পরিবার তাকে দত্তক নেয়। নতুন দেশ, নতুন ভাষা আর নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা সেই শিশুই এখন আর্জেন্টিনার ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে আলোচনায়। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ভেলেজ সার্সফিল্ডের যুব দল থেকে উঠে এসে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে।

বর্তমানে ভেলেজ সার্সফিল্ডের বয়সভিত্তিক দলে নিয়মিত খেলছেন রামোস। তার স্বাভাবিক পজিশন লেফট উইং হলেও প্রয়োজন হলে ডান প্রান্তেও সমান দক্ষতার সঙ্গে খেলতে পারেন। বাঁ পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুতগতির ড্রিবলিং, প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা এবং বল হারানোর পরপরই প্রেসিং এসব গুণের কারণে বয়সভিত্তিক ফুটবলে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ভেলেজের যুব দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন রামোস। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই করেছেন ১২টি গোল। এর মধ্যে অ্যাথলেটিকো দে রাফায়েলার বিপক্ষে এক ম্যাচে চার গোল করে নিজের প্রতিভার বড় প্রমাণ দিয়েছেন। ধারাবাহিক এই পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে কোচ দিয়েগো প্লাসেন্তের অধীনে প্রথমবারের মতো আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলে ডাক পান তিনি।

ফাইনালে হারের পর কেন দলের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় ফেরেননি মেসি
জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রামোস বলেন, আর্জেন্টিনাই তার বেড়ে ওঠার দেশ। এখানেই তিনি স্প্যানিশ ভাষা শিখেছেন, এখানেই গড়ে উঠেছে তার জীবন। ভেলেজের মূল দলে অভিষেক করা এবং একদিন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে খেলা এই দুটি স্বপ্নই এখন তাকে অনুপ্রাণিত করছে।

দীর্ঘদিন ধরেই আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে স্বাভাবিক লেফট উইঙ্গার পজিশনে স্থায়ী সমাধান খুঁজছে দলটির কোচিং স্টাফ। সেই জায়গায় ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে রামোসকে। বয়স, দক্ষতা এবং উন্নতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে ২০৩০ বিশ্বকাপে, যখন তার বয়স হবে মাত্র ২১ বছর, তখন জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও দেখছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক।

রামোসের গল্পের আরেকটি বিশেষ দিক হলো তার শিকড়। আর্জেন্টিনার ফুটবলে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বিরল। হাইতিতে জন্ম নেয়া এবং পরে আর্জেন্টিনায় দত্তক নেয়া রামোস ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারলে তিনি হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নতুন এক ইতিহাসের অংশ হবেন। তাই তার যাত্রা শুধু একজন প্রতিভাবান ফুটবলারের উত্থানের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে স্বপ্ন ছুঁয়ে দেখার এক অনুপ্রেরণাদায়ক অধ্যায়ও।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আড়াল থেকেই ইরানের যুদ্ধকৌশল নিয়ন্ত্রণ করছেন মোজতবা খামেনি

1

ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাবেন যেভাবে

2

বিচার দূরে, দায় খোঁজাই শুরু হয়নি

3

হারানো জিনিস ফিরে পাওয়ার দোয়া ও ইসলামিক আমল

4

নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ

5

রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাউশির

6

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে শিশুসহ নিহত ৩

7

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি আর্জেন্টিনার

8

ফকিরহাটে অ্যালুমিনিয়াম বোঝাই ট্রাক ডাকাতি

9

তৃণমূল থেকে অপসারিত মমতা, এরপরে কী

10

জার্মানিকে হারিয়ে চাকরি বাঁচালেন ইকুয়েডর কোচ

11

উরুগুয়ের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে কেপ ভার্দে

12

‘বিশ্বকাপ বিক্রি’র পরিকল্পনা বাতিল, স্বাগত জানিয়ে ফিফাকে সতর

13

১৭ বছর বয়সে কলেজ ছেড়ে ৯ বছর পর ৩৩০ কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠা

14

মেসি এত ভালো খেলে কেন, প্রশ্ন ব্রাজিল সমর্থক বুবলীর

15

হাম ও উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু

16

জাপানে আবারও ভূমিকম্পে আঘাত হেনেছে

17

মেসিকে কখনও রাগানো যাবে না

18

মায়ের পচন ধরা লাশ, যুগ্ম সচিব ছেলেকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহা

19

স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান মেলার সুপারিশ

20