ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর দাবি, নির্বাচনে কেন রিপাবলিকানরা পিছিয়ে পড়েছে, সেটি নিয়ে নতুন করে ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। বিষয়টি প্রায় সবার কাছেই পরিষ্কার। একই সঙ্গে এবারের নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন ও নীতির প্রতি জনগণের মূল্যায়ন বা এক ধরনের গণভোট হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে নির্বাচনে দলের পরাজয়ের কারণ নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ভ্যান্স। তিনি সরাসরি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কারণেই তাঁদের এই পরাজয় হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও আগের রাতে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ভ্যান্স মনে করেন, যুদ্ধের পক্ষে কেউ অবস্থান নিতে চাইলে তাঁকে স্বীকার করতে হবে যে এর বিনিময়ে রাজনৈতিকভাবে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। বিশেষ করে আগামী ছয় বছরের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টিও সেই মূল্যায়নের অংশ।
নিজের পোস্টে ভ্যান্স আরও বলেন, কেউ যদি মনে করেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানো সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল এবং এর বিনিময়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোও গ্রহণযোগ্য, তাহলে তিনি সেই যুক্তি তুলে ধরতে পারেন। তবে যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলে এর রাজনৈতিক মূল্য কতটা বড়, সেটিও স্বীকার করা উচিত। তাঁর মতে, কেউ যুদ্ধের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হোন কিংবা দ্বিমত পোষণ করুন, অন্তত এ বিষয়ে সৎ ও স্পষ্ট অবস্থান থাকা প্রয়োজন।
নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও যুদ্ধের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে থাকা উচিত বলে মনে করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কেন তাঁরা নির্বাচনে হেরেছেন, তা সবারই জানা। এখন সামনে কীভাবে এগিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে যেকোনো আন্তরিক আলোচনার সূচনা করতে হবে এই বাস্তবতা স্বীকার করার মধ্য দিয়ে।
ভ্যান্সের এমন বক্তব্যকে মার্কিন রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, ইরানের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ ও কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টায় একসময় ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত নিয়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই এই যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা নিয়ে ভ্যান্সের সংশয় ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেডি ভ্যান্সের নাম আলোচনায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের মতো রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় ইস্যু থেকে নিজের অবস্থান আলাদা করে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আলোচনা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে যুদ্ধের রাজনৈতিক প্রভাব এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরের অবস্থান নতুন করে সামনে এসেছে।
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরে যুদ্ধনীতি নিয়ে আত্মসমালোচনার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ভ্যান্সের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনা নির্ধারণের আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রভাব ও নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলের মধ্যে খোলামেলা আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মন্তব্য করুন