মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নতুন একটি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা জোরদার করেছে। রোববার দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির বেশিরভাগ আলোচনা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সমঝোতার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী দীর্ঘদিন অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালীটি খুলে দেয়া হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতারাও সম্পৃক্ত রয়েছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইন-এর নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া তুরস্ক ও পাকিস্তান-এর প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার বৈঠকের আয়োজন করতে ইসলামাবাদ আগ্রহী। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নিলে কঠোর জবাব দেয়া হবে।
এদিকে লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে। একই সময়ে ইসরাইল সীমান্ত এলাকায় তাদের এক সেনা নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা কমার পাশাপাশি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
মন্তব্য করুন