ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
অনলাইন সংস্করণ

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার

প্রতীকী ছবি

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে সরকার, যা দেশের ব্যাংকিং খাতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম থাকলেও সরকার ধারাবাহিকভাবে ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এখনও তিন মাস বাকি থাকতেই সরকার পুরো বছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ছিল, সেখানে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা।

ফলে ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের মোট ঋণ স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে প্রতিবছরই সরকার ঋণ নেয়, তবে এবার ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং প্রত্যাশিত রাজস্ব আয় না বাড়ার কারণে ঋণের ওপর নির্ভরতা বেশি হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকেও কাঙ্ক্ষিত ঋণ না পাওয়ায় সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস, বিশেষ করে ব্যাংকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এই বাড়তি ঋণ চাহিদা মেটাতে সরকার নিয়মিত নিলামের বাইরে গিয়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিশেষ নিলাম আহ্বান করছে। গত ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৮ এপ্রিল আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকার জন্য বিশেষ নিলাম ডাকা হয়েছে। ফলে অর্থবছর শেষে মোট ঋণের পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকার নিয়েছে ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা, যার ফলে সেখানে মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৯ মাসে নেওয়া হয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণকে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকায় নিয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অর্থবছরের শুরুতে সরকারের ঋণ চাহিদা কম ছিল এবং অক্টোবর পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধই বেশি হয়েছিল।

এদিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে স্থবিরতা দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.০৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে, যা বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উচ্চ সুদহার, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্যোক্তারা নতুন ঋণ নিতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি খাতের এই ধীরগতি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্ত হলে ভবিষ্যতে অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ট্রাম্প ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন, প্রথম দিনেই সই করবেন রেকর্ডসংখ্য

1

ইরানের চিঠি জাতিসংঘে: ৫ দেশের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি

2

পেজ ফিরে পেলেন ভাইরাল তাজু

3

গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বিএনপি

4

দল বাঁচাতে আ.লীগের শীর্ষ নেতাদের দেশে ফেরার আহ্বান তৃণমূলের

5

মুক্তি অথবা মৃত্যু, আত্মসমর্পণ নয় : ইমরান খান

6

শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ৯৭২ ফ্লাইট বাতিল

7

দুপুরে ডাকসুর প্যানেল ঘোষণা করবে ছাত্রদল

8

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

9

জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে সিঙ্গাপুরে অস্ট্রেলিয়ার

10

খরচ কমাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

11

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমান বাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

12

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ ২০২৬

13

স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ

14

শাবিতে অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক প্রটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগ, ইউটিএল’র

15

তরমুজের খোসা-বীজেও মিলবে উপকার

16

ইরানে অস্ত্র পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন, দাবি মার্কিন গোয়ে

17

এফএ কাপের শেষ চারে কার প্রতিপক্ষ কে

18

হাসপাতালে অনেকটা সুস্থ আছেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু:

19

গরমের দিনে পান্তা ভাতে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা

20