ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে সরকারের বিনিয়োগমূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই কর্মসূচির কারণে জাতীয় বাজেটের ওপর কোনো অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। বরং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে এবং বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শুধু জনগণের সহায়তাই করে না, বরং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এসব উদ্যোগ সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রাজধানী ঢাকা-র ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, ঢাকামুখী জনস্রোত কমানো একটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এজন্য রাজধানীর বাইরে শিল্পাঞ্চল, কর্মসংস্থান কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
নগর পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা হচ্ছে। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল-এর বর্জ্যকে জ্বালানিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পরিবেশ সুরক্ষা ও জ্বালানি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বাইপাস সড়ক নির্মাণের প্রভাব সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বাইপাস সড়ক ঘিরেই নতুন শহর গড়ে ওঠে, যা পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে কখনও কখনও নতুন বাইপাস পরিকল্পনার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
সবশেষে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, এটি ব্যয় নয় বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন