ডেস্ক রিপোর্টার
প্রকাশ : বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনির সংখ্যা ছাড়িয়েছে দেড় কোটি

সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসবাস করছেন। আর বাকি বিপুলসংখ্যক মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদ্বাস্তু বা প্রবাসী হিসেবে জীবনযাপন করছেন।

১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় যে ব্যাপক উচ্ছেদ ও মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, ফিলিস্তিনিরা সেটিকে ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে স্মরণ করে। সেই ঘটনার ৭৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৮১ লাখ ফিলিস্তিনি নিজভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করছেন। চলমান সংঘাত, দখলদারিত্ব ও সামরিক অভিযানের কারণে নতুন করে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ২২ লাখ মানুষের বসবাস ছিল। তবে সাম্প্রতিক ইসরাইলি হামলার ফলে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। অনেকেই এখন তাঁবু, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা স্কুলে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।

শুধু গাজাই নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলেও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের শরণার্থী শিবির ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। একই সঙ্গে সেখানে অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি ও সামরিক ঘাঁটির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪৫টিতে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৭ লাখ ৭৮ হাজার ইসরাইলি বসবাস করছে, যাদের বড় একটি অংশ রয়েছে অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেম এলাকায়।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সামরিক আদেশের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ৫ হাজার ৫৭১ দুনাম জমি দখল করা হয়েছে। এছাড়া ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরে চালানো ৬০ হাজারের বেশি হামলায় অন্তত ৮১ হাজার গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে। এর বেশিরভাগই ছিল জলপাই গাছ, যা ফিলিস্তিনিদের অর্থনীতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বর্তমানে পুরো পশ্চিম তীরজুড়ে প্রায় ৯০০টি সামরিক তল্লাশি চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিজমি ও চারণভূমিতে প্রবেশও কঠিন হয়ে পড়েছে।

গাজায় গত দুই বছরের সামরিক অভিযানে ১ লাখ ২ হাজারের বেশি ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর বড় অংশই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই দীর্ঘ সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের মানবিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিয়ের গহনা ও নগদ টাকা নিয়ে উধাও নববধূ

1

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব

2

বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট-হেলমেট পরে এই গরমে মরেই যাবো : সালমান এফ

3

ফাইল না দেওয়ায় অফিস সহায়ককে পুলিশে দিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল

4

আজ তেহরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

5

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা চায় বাংলাদেশ

6

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রামে আসছে পেইড ফিচার

7

প্রভাবশালী লোকদেরই টার্গেট করা হয়: ট্রাম্প

8

ভায়াগ্রা ব্যবহারের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন ইংল্যান্ডের কোচ

9

রুবেল হোসেনকে বিদায়ী বিশেষ সম্মাননা দিল বিসিবি

10

দেশের পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নের সিদ্ধান্ত

11

পেনাল্টি মিসে রাগ হলেও ভুল শুধরে নিলেন মেসি

12

বৃষ্টির পরও তেহরানে ভয়াবহ পানি সংকটের আশঙ্কা

13

তারুণ্যের ভিড়ে বিশ্বকাপে নজর কাড়বেন ৮ ‘বয়স্ক’ ফুটবলার

14

মিয়ানমারে বন্দিদের সাজা কমানোর ঘোষণা

15

মেসির ৩ ছেলে, কে কোন পায়ে ও কোন পজিশনে খেলে

16

মেসির জাদুতে মুগ্ধ শাকিরা

17

কলকাতায় পৌঁছেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

18

মেসির হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ দেখতে চাই না

19

হোয়াইট হাউসের কাছে পুলিশের গুলিতে আহত ২

20