মাটির গভীরে লুকিয়ে থাকা ক্ষুদ্র অণুজীব বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব অণুজীব বাতাসের মাধ্যমে মেঘে পৌঁছে সেখানে জলের কণাকে বরফে রূপান্তরিত করতে সহায়তা করে, যার ফলে বৃষ্টি ও তুষারপাত সহজে ঘটতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক মেঘের ভেতরে বরফ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে জলের কণা দ্রুত ভারী হয়ে মাটিতে নেমে আসে, যা বৃষ্টিপাত বাড়াতে সহায়তা করে।
বৃষ্টি কীভাবে তৈরি হয় তা বোঝার জন্য প্রথমে মেঘের ভেতরের জলীয় কণার আচরণ জানা জরুরি। উচ্চ বায়ুমণ্ডলে মেঘের তাপমাত্রা অত্যন্ত কম হলেও সেখানে থাকা পানি সবসময় বরফে পরিণত হয় না, কারণ বরফ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্র সবসময় উপস্থিত থাকে না। এমনকি -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রায়ও বিশুদ্ধ পানি তরল অবস্থায় থাকতে পারে।
বৃষ্টির জন্য মেঘের ভেতরে জলের কণা বরফে রূপান্তরিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই প্রক্রিয়ায় ‘নিউক্লিয়েশন সেন্টার’ বা ক্ষুদ্র কণা প্রয়োজন হয়, যার চারপাশে বরফ জমে বড় কণায় পরিণত হয়। সাধারণত ধুলো বা লবণের কণা এই ভূমিকা পালন করে, তবে এগুলো সবসময় কার্যকর নয়।
এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রকৃতিতে থাকা কিছু ব্যাকটেরিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Pseudomonas syringae, যা গাছের পাতায় বাস করে এবং মেঘে পৌঁছে জলের কণাকে সহজেই বরফে পরিণত করতে সাহায্য করে। এই ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন -২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও বরফ গঠনে সক্ষম।
নতুন গবেষণায় আরও জানা গেছে, কিছু ছত্রাকের প্রোটিন এই ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকরভাবে বৃষ্টিপাত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। ছত্রাকগুলো তাদের কার্যকর প্রোটিন মাটির ভেতরে সংরক্ষণ করে রাখে, যা পরে বাতাসের মাধ্যমে মেঘে পৌঁছে বৃষ্টির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
এই আবিষ্কার আবারও প্রমাণ করছে যে ক্ষুদ্র অণুজীবগুলো পৃথিবীর জলচক্র ও বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মন্তব্য করুন